চেলসির নতুন কোচ হিসেবে জাবি আলোনসোর অভিষেকটা হয়েছে দারুণ। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে তার দল। ক্রাভেন কটেজে অনুষ্ঠিত এই ওয়েস্ট লন্ডন ডার্বিতে ম্যাচের মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মাথায় জোয়াও পেদ্রোর গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। গত মৌসুমে লিগ টেবিলের ১০ম স্থানে শেষ করা চেলসিকে নতুন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন আলোনসো। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আট মাসেরও কম সময়ে বরখাস্ত হওয়ার পর এটি তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আলোনসোর এই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে দুর্দান্তভাবে, যেখানে তার দল ফুলহামের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে।
ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত ও গোলসমূহ
- ম্যাচের ৩১ সেকেন্ডেই লেভি কলউইলের হেডার থেকে কোল পামারের পাস ধরে গোল করেন জোয়াও পেদ্রো।
- ২৩তম মিনিটে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের ভুলে জশ কিং গোল করে ফুলহামকে সমতায় ফেরান।
- ৪১তম মিনিটে ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রয়ের ক্রস থেকে মরগান রজার্স গোল করে চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
- দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯তম মিনিটে কোল পামার চেলসির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।
- ৫৪তম মিনিটে সানচেজের আরেকটি ভুলে গঞ্জালো গার্সিয়া ফুলহামের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন।
মরগান রজার্স তার অভিষেক ম্যাচে গোল করে দলকে জয়ী হতে সাহায্য করেছেন। অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১৫৯ মিলিয়ন ডলারে যোগ দেওয়া রজার্স ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ব্রিটিশ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। গোল উদযাপনে রজার্স তার সতীর্থ কোল পামারের জনপ্রিয় ‘আইস-কোল্ড’ ভঙ্গিটি প্রদর্শন করেন। পামার নিজেও এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করে ব্যবধান বাড়িয়েছেন। চেলসির ৩-৪-৩ ফরমেশনে রক্ষণভাগে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও আক্রমণভাগে তারা ছিল অত্যন্ত ধারালো ও উদ্দেশ্যমূলক।
ম্যাচটিতে পুরনো বন্ধুদের মিলনমেলাও দেখা গেছে। নতুন ফুলহাম কোচ আলভারো আরবেলোয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছেন আলোনসো। তারা দুজনেই রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল এবং স্পেনের হয়ে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আলোনসোকে বরখাস্ত করার পর আরবেলোয়াকেই তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। এই ম্যাচে চেলসির হয়ে এনজো ফার্নান্দেজ বদলি হিসেবে মাঠে নামলে ফুলহাম সমর্থকরা তাকে দুয়ো দেন, যা মূলত আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপের উত্তেজনার রেশ।
ম্যাচের শেষ দিকে ফুলহাম সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। জশ কিংয়ের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অ্যান্টোনি রবিনসনের একটি লবও গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধান ধরে রেখে আলোনসো তার নতুন ক্লাবে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলেন। চেলসির রক্ষণভাগে সানচেজের ভুলগুলো নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও, আক্রমণভাগের এই ছন্দ আগামী ম্যাচগুলোতে তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। রজার্স এবং পামারের মধ্যকার রসায়ন চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ে ফিরতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

