বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আলোচিত ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারির ঘটনায় এবার বড় ধরনের মোড় এসেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ী হুগো জিনকিস এবং তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে তারা মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি ডিফার্ড প্রসিকিউশন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এই সমঝোতার অংশ হিসেবে জিনকিস বাবা-ছেলে প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করতে সম্মত হয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি। মার্কিন আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, তারা মূলত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্টের মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব হাতিয়ে নিতে কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং কোপা আমেরিকার মতো বড় আসরগুলোর স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এই অবৈধ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিজেদের প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’-এর ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করতে দীর্ঘ সময় ধরে ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তারা। তবে বর্তমান সমঝোতার ফলে তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি সরাসরি বিচারে গড়াবে না। চুক্তি অনুযায়ী, তারা যদি নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলেন, তবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার অভিযানের মধ্য দিয়ে এই বিশাল দুর্নীতি কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভেতরের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই সময় থেকেই ফিফা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার কর্মকর্তা এবং স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার ও দোষ স্বীকারের ঘটনা ঘটে চলেছে।
জিনকিস বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে র্যাকেটিয়ারিং ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ এই সমঝোতা তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ নিষ্পত্তির একটি পথ তৈরি করল। একই সঙ্গে এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্ধকার জগতের আরও অনেক তথ্য উন্মোচনের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে হুগো ও মারিয়ানো জিনকিসকে ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে তাদের স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে দীর্ঘদিনের ঘুষের নেটওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

