ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন রায়ান চেরকি। কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এই ফরাসি প্লে-মেকার জোড়া গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা না পেয়ে চেরকি বেশ হতাশ ছিলেন, তবে সেলহার্স্ট পার্কে সুযোগ পেয়ে তিনি তার ক্ষোভ ও প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন দারুণভাবে।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান ও তথ্য
- ফলাফল: ক্রিস্টাল প্যালেস ১-৪ ম্যানচেস্টার সিটি।
- ম্যান সিটির গোলদাতা: আর্লিং হালান্ড (১৭ ও ৮৪ মিনিট), রায়ান চেরকি (৫৪ ও ৫৯ মিনিট)।
- প্যালেসের গোল: জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার আত্মঘাতী গোল (৫৬ মিনিট)।
- নতুন অভিষেক: লিল থেকে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড (১১৬ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে আসা আইয়ুব বুয়াদি শেষ দিকে মাঠে নেমেছেন।
- প্যালেসের কোচ: পিয়ের সাগে (টানা দ্বিতীয় পরাজয়)।
- প্রথমার্ধের পরিস্থিতি: হালান্ডের গোলে সিটি এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে চেরকির একটি শট রুখে দেন ডিন হেন্ডারসন।
- রক্ষণের পরিবর্তন: মার্ক গুয়েহিকে তার প্রিয় সেন্টার-ব্যাক পজিশনে ফিরিয়ে এনেছিলেন কোচ মারেস্কা।
- মিডফিল্ড সমন্বয়: নিকো ও’রিলি এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসন মাঝমাঠে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।
- হালান্ডের লক্ষ্যভেদ: ১৭তম মিনিটে আন্তোয়ান সেমেনিয়োর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন হালান্ড।
- মিস ও সুযোগ: ফিল ফোডেন বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, যার মধ্যে একটি ছিল চেরকির বাড়ানো বল থেকে।
- দ্বিতীয়ার্ধের শুরু: এডি এনকেটিয়াহ প্যালেসের হয়ে একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
- চেরকির জাদু: ৫৪ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চেরকি সিটির দ্বিতীয় গোলটি করেন।
- প্যালেসের সান্ত্বনা: ৫৬ মিনিটে ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে দোন্নারুম্মার পিঠে আঘাত করে জালে জড়ায়।
- নির্ধারক গোল: ৫৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চেরকির জোরালো শট হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে।
- চূড়ান্ত আঘাত: ৮৪ মিনিটে ফোডেনের পাস থেকে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
২৩ বছর বয়সী চেরকির প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যদিও গত মৌসুমে পেপ গার্দিওলার অধীনে তার খেলার ধরন এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মারেস্কার অধীনে তিনি নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করছেন। সিটির নতুন সাইনিং আইয়ুব বুয়াদিকে শেষ দিকে মাঠে নামানোর মাধ্যমে ক্লাবটি তাদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনার এক ঝলক দেখিয়েছে।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে আন্তোয়ান সেমেনিয়োর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। এরপর প্যালেস কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও চেরকির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাদের সব আশা ধূলিসাৎ করে দেয়। ৫৪ মিনিটে ফোডেনের পাস থেকে চেরকি যখন গোলটি করেন, তখন প্যালেসের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। যদিও দুই মিনিট পরেই প্যালেস একটি গোল শোধ করে, কিন্তু ৫৯ মিনিটে চেরকির দ্বিতীয় গোলটি ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি সিটির দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচ শেষে কোচ মারেস্কা চেরকির এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বোর্নমাউথের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে দুই গোলে সহায়তা করার পর, এবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, আর্লিং হালান্ড তার স্বভাবসুলভ ক্ষিপ্রতায় গোল করে সিটির জয় নিশ্চিত করেছেন। প্যালেসের নতুন কোচ পিয়ের সাগের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন পরীক্ষা, যেখানে তার দল সিটির আক্রমণের সামনে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। সিটির এই জয় প্রিমিয়ার লিগে তাদের শিরোপা দৌড়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।

