মেট্রোরেলের ভেন্ডিং মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি: চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেল স্বস্তি বয়ে আনলেও বর্তমানে এর টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে একক যাত্রার টিকিট সংগ্রহের জন্য স্থাপিত ভেন্ডিং মেশিনগুলো নিয়মিত বিকল হয়ে পড়ায় যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। চালু হওয়ার পর থেকেই মেশিনগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছিল, যা বর্তমানে আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় টিকিট কেনার পর মেশিন থেকে অবশিষ্ট টাকা ফেরত না পাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য একক যাত্রার টিকিট ছাড়াও এমআরটি বা র‌্যাপিড পাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে অধিকাংশ যাত্রীই একক যাত্রার টিকিটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি স্টেশনে ৪ থেকে ৬টি ভেন্ডিং মেশিনের পাশাপাশি ম্যানুয়ালি টিকিট কাটার ব্যবস্থা থাকলেও পিক আওয়ারে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত মেশিনের ত্রুটির কারণে টিকিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। প্রতিটি স্টেশনেই অন্তত একটি থেকে দুটি মেশিন প্রায়ই অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রোববার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শাহবাগ স্টেশনের এক পাশের তিনটি মেশিনের মধ্যে একটি বন্ধ ছিল এবং অন্যটিতে একক টিকিট কাটার অপশন অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বিজয় সরণি স্টেশনের চারটি মেশিনের মধ্যে একটি অকেজো এবং অন্য একটি পলিথিন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যার ওপর লেখা ছিল, “ঞগঠ- এ টিকিট বিক্রি বন্ধ”। ফার্মগেট স্টেশনেও একটি মেশিনে “লেনদেন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি আছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত” এমন নোটিশ ঝোলানো ছিল। কাওরান বাজার স্টেশনের চিত্রও ছিল একই রকম। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মতিঝিল স্টেশনে শত শত যাত্রীকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, যাত্রীরা মেশিনে ছেঁড়া-ফাটা কিংবা ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ব্যবহার করায় সেগুলো বারবার বিকল হচ্ছে। মেশিনগুলো মূলত এ ধরনের নোট গ্রহণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।

এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্সের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, মেশিন থাকলে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক, যা তারা নিয়মিত সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে টাকার মান ও গুণগত সমস্যার কারণে এই জটিলতা বেশি তৈরি হয়। আঠা লাগানো, নোংরা কিংবা ছেঁড়া নোট ব্যবহারের ফলে টাকা আটকে গিয়ে মেশিনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। অন্যান্য দেশে নোটের স্থায়িত্বকাল নির্দিষ্ট থাকলেও বাংলাদেশে তা না থাকায় এই ভোগান্তি বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চাকরির আরও তথ্য: প্রতিটি স্টেশনেই অন্তত ১ থেকে দুইটি মেশিন বন্ধ বা অকেজো হয়ে আছে। চাকরির আরও তথ্য: মেট্রোরেলে কয়েকগুণ বেশি যাত্রীর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। চাকরির আরও তথ্য: একযাত্রার টিকিট ও স্থায়ী টিকিট ব্যবহার করে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। চাকরির আরও তথ্য: ম্যানুয়ালি একজন কর্মকর্তা টিকিট ইস্যু করেন। চাকরির আরও তথ্য: একেকজন যাত্রী অন্তত ঘণ্টাখানেক সারিতে দাঁড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত টিকিট কিনতে পারেন। চাকরির আরও তথ্য: রোববার মেট্রোরেলের পাঁচটি স্টেশন সরজমিন ঘুরে দেখেছে।