কুষ্টিয়ায় এনজিওর আড়ালে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার ঘটনায় দায়ের করা ১২৪টি মামলার আসামি মো. আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার আনিছুর রহমান কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৬ সালে তিনি আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিও এবং ‘বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। এরপর কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় কয়েকশ শাখা খুলে কার্যক্রম বিস্তার করেন তিনি।
তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ডিপিএসের নামে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করতেন আনিছুর। এভাবে সংগৃহীত শত কোটি টাকা দিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, গাড়ি ও জমি কিনে সম্পদের পাহাড় গড়েন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গ্রাহকদের চাপের মুখে তিনি অফিসের তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ১২৪টি মামলা দায়ের হয় এবং আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর মধ্যে ১২টি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত। ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে একবার গ্রেপ্তার করা হলেও ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ১০৪ জন আসামির সঙ্গে তিনিও পালিয়ে যান।
কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও র্যাবের সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক ভুক্তভোগী থানায় ভিড় করেন। পুলিশ তাদের আইন অনুযায়ী আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রাজবাড়ীর পাংশার আব্দুল মাজেদ জানান, গার্মেন্টসে চাকরির জমানো সাড়ে ১১ লাখ টাকা দ্বিগুণ লাভের আশায় তিনি এই এনজিওতে রেখেছিলেন। তার স্ত্রী বিনা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “দ্বিগুণ লাভের আশায় এখন সব শেষ। সর্বহারা হয়ে থানায় এসেছি।”
একইভাবে জাহানারা খাতুন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০১৩ সাল থেকে এই এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, “চাকরির বেতন, বোনাস, জমির ইজারা ও গবাদি পশু বিক্রিসহ মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকা আনিছুর রহমানের কাছে জমা দিয়েছিলাম। সব টাকা নিয়ে তিনি পালিয়ে যান।”
আনিছুর রহমানের ভাগ্নি বিনা খাতুনও জানান, তিনিও লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলেন। বর্তমানে সব হারিয়ে ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কুষ্টিয়ায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার ১২৪ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত জেল পলাতক আসামি মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৩ সালের শুরুতেই এনজিও কর্মীরা বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাদের লগ্নিকৃত টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলাউদ্দিননগর থেকে এনজিওর মূল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানের সময় ঢাকা আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় প্রেরণ করেন। চাকরির আরও তথ্য: বৃহস্পতিবার কুমারখালী থানা চত্বরে আসা রাজবাড়ীর পাংশার মাছপাড়া এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে আব্দুল মাজেদ (৬৪) বলেন, “সারা জীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম।
