ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে নিজে অসুস্থ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছেলের ক্যান্সারের চিকিৎসার পাশে থাকতে এসে এখন নিজেই অসুস্থতার কবলে পড়েছেন ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাঁর একমাত্র ছেলে রাহিমুল বারি চৌধুরী স্টেজ-৪ কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। গত ২৭ জুন স্ত্রীকে নিয়ে সিডনিতে পৌঁছানোর প্রায় তিন মাস পর মোস্তাফিজুর রহমান নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনেই সিডনির ক্রিস ও’ব্রায়েন লাইফহাউস ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের এই চরম দুঃসময়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাহিমুলের চিকিৎসার জন্য প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর একটি করে কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে, যার প্রতিটির পেছনে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে নিয়মিত পিইটি স্ক্যান, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিশাল খরচ রয়েছে। বাবার ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর পুরো পরিবারের ওপর আর্থিক বোঝা বহুগুণ বেড়ে গেছে। রাহিমুল জানান, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে ভিসা আবেদনের জন্য বাবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো রোগের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাহিমুল বলেন, এই পরিস্থিতি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। একদিকে নিজের চিকিৎসা, অন্যদিকে বাবার অসুস্থতা—সব মিলিয়ে হাসপাতালের বিল ও অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তারা GoFundme-তে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। বাবার সুস্থতা ও নিজেদের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন রাহিমুল। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি, যাতে তারা এই মরণব্যাধিকে পরাজিত করে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একমাত্র সন্তান যখন স্টেজ-৪ কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন, তখন তাঁর পাশে থাকাটাই ছিল বাবার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলেকে সাহস দিতে বাংলাদেশ থেকে সিডনিতে এসেছিলেন বাবা-মা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাসপাতালের করিডর, কেমোথেরাপির দীর্ঘ সময় আর অনিশ্চয়তায় ভরা প্রতিটি দিনে ছেলের কাঁধে হাত রেখে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু কে জানত, ছেলের পাশে দাঁড়াতে এসে মাত্র তিন মাসের মধ্যে নিজেকেই বসতে হবে হাসপাতালের রোগীর আসনে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর চিকিৎসকদের কাছ থেকে আসে এমন এক খবর, যা যেন এক মুহূর্তে থামিয়ে দেয় পরিবারের সব স্বাভাবিকতা—তাঁর শরীরেও ধরা পড়েছে লিভার ক্যান্সার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবার বাবার চিকিৎসাও সেই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক চাপ।