বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা আতিকুর রহমান রুমন বর্তমানে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী যোগাযোগের দায়িত্বে রয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ মে জন্মগ্রহণ করা রুমনের কর্মজীবনের যাত্রাটি শুরু হয়েছিল সাংবাদিকতার মাঠ থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল, যা তাকে পরবর্তী সময়ে লেখক ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিতি দেয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার পেশাগত জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এই দায়িত্বের মেয়াদ ছিল সংক্ষিপ্ত। মাত্র দুই দিনের মাথায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে কার্যকর থাকবে।
একজন সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তাকে বর্তমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সহায়তা করছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও অতিরিক্ত প্রেস সচিবের মূল কাজ হলো প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি, সরকারি নীতি ও বক্তব্য সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার যোগাযোগ বজায় রাখা। এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করছেন।
রুমনের কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়। তিনি বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি অব্যাহত রাখায় তার পেশাগত জীবনে একটি দ্বৈততা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার পর তার কার্যক্রম সরকারি নীতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্ধারিত গণ্ডিতে পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি পুনর্গঠিত হলে সেখানেও রুমনের ভূমিকা যুক্ত হয়। এই কমিটির মাধ্যমে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান, সাংবাদিকদের বিভিন্ন অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন হয়। পেশাগত মানদণ্ড ও নীতিমালার প্রয়োগে এই দায়িত্বটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যেখানে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অপরিহার্য।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গুজব ও যাচাইহীন তথ্যের ভিড়ে সঠিক খবর পরিবেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। রুমনের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা তাকে ডিজিটাল গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে সাহায্য করে। তার মতে, সাংবাদিকতা কেবল সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যম নয়, বরং প্রশ্ন করা ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার একটি প্রক্রিয়া। এই দর্শন থেকেই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করছেন।
মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়। ঢাকার বাইরে থাকা সংবাদকর্মীরা প্রায়ই বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন। রুমনের অভিজ্ঞতা মাঠ ও কেন্দ্রের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
তার পেশাগত যাত্রার প্রতিটি ধাপ—বগুড়ার ছাত্রজীবন থেকে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদনা এবং সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানো—একটি দীর্ঘ ও বহুস্তরীয় প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতা একটি স্থায়ী সূত্র হিসেবে তার সঙ্গে যুক্ত থেকেছে।
উল্লেখ্য, তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসার প্রক্রিয়ার সমান্তরালে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাথে ঢাকা ও জয়দেবপুরের বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রকল্প অন্যতম, যাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। দেশের এসব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আতিকুর রহমান রুমনের এই রূপান্তর মূলত সাংবাদিক ও রাষ্ট্রের মধ্যকার পেশাদার সম্পর্কের এক নতুন উদাহরণ। সাংবাদিকতার মাঠ থেকে উঠে আসা একজন ব্যক্তি যখন রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন, তখন তিনি সংবাদমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা ও চাহিদাগুলো আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, তার কর্মজীবন সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের এক জটিল মিশ্রণ। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এখন সরকারি স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।
তার এই নতুন অধ্যায়টি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও সাংবাদিকতা মহলে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে যেমন সংবাদ ও গণমাধ্যমের ভেতরের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করেছে, তেমনি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে নিয়ে গেছে আরও বিস্তৃত এক পরিসরে। চাকরির আরও তথ্য: প্রকাশিত জীবনীসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা রুমনের বাবা হাফিজুর রহমান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী ও সমাজসেবী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মা ফেরদৌসী বেগম ছিলেন গৃহিণী এবং এফএইচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবার ও শৈশবের এই পরিমণ্ডল থেকেই তার শিক্ষাজীবনের সূচনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার শিক্ষাজীবনের সঙ্গে বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজের নাম বিশেষভাবে যুক্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ পেশাগত সাংবাদিকতায় প্রবেশের আগে থেকেই সমাজ ও রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজধানীকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার বাইরে জেলা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সংবাদকর্মীদের জন্য যে ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, তার সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ সেই সময়েই তৈরি হয়।

