৪৪ বছর বয়সে নতুন অবতারে ফিরলেন সন ইয়ে-জিন

দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেল নতুন কোরিয়ান সিরিজ ‘দ্য স্ক্যান্ডাল’। আট পর্বের এই সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সন ইয়ে-জিন। সর্বশেষ ২০২২ সালে ‘থার্টি নাইন’ সিরিজে নিয়মিত দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবার তিনি ফিরেছেন জোসন যুগের পটভূমিতে নির্মিত এক ঐতিহাসিক চরিত্রের মাধ্যমে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন এক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে সিরিজটি উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সিরিজটিতে সন ইয়ে-জিন এমন এক নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি তৎকালীন সামাজিক কঠোর বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করেন না। কেন্দ্রীয় চরিত্র চো’র জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তোলা অভিনেত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সন ইয়ে-জিনের ভাষ্যমতে, চরিত্রটি তাঁকে শুরু থেকেই প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছিল। তিনি জানিয়েছেন, এই চরিত্রে অভিনয় করার সময় নিজের দীর্ঘদিনের অভিনয়-অভিজ্ঞতা এবং বয়সের পরিপক্কতাকে কাজে লাগাতে হয়েছে, যাতে চরিত্রের গভীরতা দর্শকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়।

‘দ্য স্ক্যান্ডাল’ কোনো মৌলিক গল্প নয়। এটি ২০০৩ সালের জনপ্রিয় কোরীয় চলচ্চিত্র ‘আনটোল্ড স্ক্যান্ডাল’-এর নতুন সংস্করণ। আবার এই চলচ্চিত্রটির মূল উৎস ছিল ১৭৮২ সালে প্রকাশিত ফরাসি লেখক পিয়ের শোদারলো দ্য লাক্লোর কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য ডেঞ্জারাস লিয়াজোঁ’। তবে পরিচালক জং জি-উ স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো পুরনো কাজের সরাসরি পুনরাবৃত্তি নয়। বরং ফরাসি উপন্যাসের মূল দর্শনে ফিরে গিয়ে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে চরিত্র ও সম্পর্কগুলোকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গল্পে চো চরিত্রটি আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ও সম্ভ্রান্ত মনে হলেও অন্তরে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও কৌশলী। নেটফ্লিক্সের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি কেবল গৃহকোণে সীমাবদ্ধ নন, বরং নিজের মানসিক শক্তির জোরে সামাজিক পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে জানেন। এই সিরিজের অপর দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে জি চ্যাং-উক ও নানাকে। জোসন যুগের সামাজিক প্রথার সঙ্গে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার যে সংঘাত, তা-ই এই সিরিজের মূল উপজীব্য। বিশেষ করে হুই-ইয়ন নামের অন্য একটি চরিত্রের সঙ্গে চো’র পরিচয়ের পর গল্পের মোড় ও সম্পর্কের সমীকরণগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পরিচালক জং জি-উ পোশাকের ব্যবহারের মাধ্যমেও চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে সন ইয়ে-জিনের পরিহিত হানবকের রঙের পরিবর্তন চরিত্রের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। অভিনেত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন যে, ভারী গয়না, চুলের সাজ এবং দীর্ঘসময় শরীরের নির্দিষ্ট ভঙ্গি বজায় রেখে অভিনয় করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। প্রতিটি দৃশ্যের চিত্রায়নের আগে তিনি চরিত্রের গভীরে প্রবেশের জন্য পরিচালকের সঙ্গে বারবার চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এই সিরিজের মাধ্যমে সন ইয়ে-জিন প্রথাগত রোমান্টিক চরিত্রের বাইরে এসে নিজের অভিনয়ের নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। সিরিজটি শুধু প্রেম বা প্রতারণার গল্প নয়, বরং সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়াজাল ভেঙে নিজের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের এক সাহসী বয়ান। প্রতিটি দৃশ্যে আবেগ ও হিসাবের ভারসাম্য বজায় রাখতে তাঁকে নিরন্তর পরিশ্রম করতে হয়েছে। নেটফ্লিক্সের ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার পর এই ঐতিহাসিক ড্রামা এখন বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে নতুন বিতর্কের পাশাপাশি প্রশংসাও কুড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘ক্র্যাশ ল্যান্ডিং অন ইউ’, ‘সামথিং ইন দ্য রেইন’, ‘থার্টি নাইন’—রোমান্টিক চরিত্রে সন ইয়ে-জিনের জনপ্রিয়তা নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পর্দায় তিনি এমন এক নারী, যিনি নিজের সময়ের সামাজিক বিধিনিষেধ মানতে নারাজ; প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষমতার খেলায় যিনি একই সঙ্গে খেলোয়াড় এবং কৌশলী নিয়ন্ত্রক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে এমন এক সময়ে মানবিক আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার গল্প বলা হচ্ছে, যখন সেগুলো প্রকাশ করাই ছিল নিষিদ্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জোসন সমাজে নারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল কঠোর নিয়ম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই পরিবেশেই বেড়ে ওঠা চো বউদি বুদ্ধিমান, আত্মসচেতন এবং নিজের ইচ্ছা সম্পর্কে স্পষ্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেটফ্লিক্সের বর্ণনায়, তিনি এমন একজন নারী, যাঁর প্রতিভা ও মানসিক শক্তি নারীদের জন্য নির্ধারিত গৃহকোণের সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই দ্বৈততাই চরিত্রটিকে সন ইয়ে-জিনের জন্য কঠিন করে তুলেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নির্মাতারা এবার শুধু পুরোনো গল্পকে সিরিজের আকারে আনেননি।