কুবি শিক্ষকের সন্তান নিহতের ঘটনায় এক সপ্তাহের সময়সীমা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে এক শোক র‍্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা কুমিল্লায় ক্রমবর্ধমান কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন। শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হল প্রভোস্টরা।

ইউট্যাব কুবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বাইরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করতে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ম্যাজিক প্যারাডাইস থেকে উত্তর গন্ধমতি হয়ে বর্ডার গার্ড সদর দপ্তর পর্যন্ত এলাকায় কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিন বলেন, ‘রাষ্ট্র এখন গভীর রাজনৈতিক সংকট ও নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপ্রতিমের এই পরিণতি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সারা দেশের জননিরাপত্তার ভগ্নদশার প্রতিফলন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘অপ্রতিম আমাদেরই সন্তান। বারবার মানববন্ধন না করে আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। কিশোর গ্যাংয়ের মতো সন্ত্রাসী চক্র দমন না হওয়া পর্যন্ত সমাজ নিরাপদ নয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই ঘটনার বিচার সম্পন্ন দেখতে চাই।’ চাকরির আরও তথ্য: সোমবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চাকরির আরও তথ্য: শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমরা ডিসি মহোদয় ও এসপি মহোদয়ের সঙ্গে মিটিং করেছি। চাকরির আরও তথ্য: পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান, অতি দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’।