সঙ্গীত ভুবনে ছয় দশক পার করলেন খুরশীদ আলম

বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী খুরশীদ আলম গানের ভুবনে সফলতার সঙ্গে ছয়টি দশক বা ৬০ বছর পার করেছেন। সুদীর্ঘ এই সঙ্গীত যাত্রায় তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যার অনেকগুলোই শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার বর্ণাঢ্য এই পথচলাকে সম্মান জানাতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (টিজেএফবি) গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘সুরের জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম-এর সঙ্গীতের ৬০ বছর’ শিরোনামের এই আয়োজনে সঙ্গীত জগতের প্রথিতযশা শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীসহ বর্তমান প্রজন্মের বেশ কয়েকজন শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজকদের। দীর্ঘদিনের সঙ্গীত জীবনে এই পথচলায় তিনি বহু সিনেমাতে গান গেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রবীণ সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আব্দুল হাদী খুরশীদ আলম সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, খুরশীদ আলম বাংলা গানে নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন। তার গায়কীতে ছিল এক ধরনের চঞ্চলতা ও সজীবতা, যা শ্রোতাদের সহজেই মুগ্ধ করত। তিনি খুরশীদ আলমকে একজন বন্ধু বৎসল ও সরল মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেন। খুরশীদ ভালো থাকুক এবং আজীবন তার প্রাণবন্ততা বেঁচে থাকুক এটাই আমার কামনা।’।

নিজের সঙ্গীত জীবনের ৬০ বছর পূর্তিতে আবেগাপ্লুত খুরশীদ আলম বলেন, দীর্ঘ সময় যেন এক পলকেই কেটে গেল। তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন যে, বাংলাদেশের বাংলা গানের সেই স্বর্ণযুগে তিনি যাত্রা শুরু করতে পেরেছিলেন। তার কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো আজও শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এবং মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সম্মান তিনি পেয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান বাংলা গানের সকল শ্রোতার প্রতি। মাঝে মাঝে নিজেই ভাবলে বিস্মিত হই যে, যেন এক পলকেই চলে গেলো এতটা বছর। তবে হ্যাঁ, এটা সত্যি যে আমার পরম সৌভাগ্য যে যখন বাংলাদেশের বাংলা গানের একটু স্বর্ণযুগের শুরু হলো সেই সময়টাতে আমি গান গাওয়া শুরু করতে পেরেছিলাম বিধায় আমার কণ্ঠে বেশকিছু জনপ্রিয় গান হয়েছে যা বাংলাদেশের গানপ্রেমী শ্রোতারা এখনো শোনেন, পথে ঘাটে বলতে ফিরতে এখনো।

আয়োজক সংগঠন টিজেএফবি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই চমৎকার আয়োজনের ফলে ষাট বছরের পথচলা তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে টিজেএফবি’র সভাপতি রেদুয়ান খন্দকারের বিনয় ও আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি রেদুয়ানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন, যাতে তার মাধ্যমে সঙ্গীতাঙ্গনের আরও উন্নয়ন সম্ভব হয়। তার আন্তরিকতা, তার বিনয় আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।

খুরশীদ আলমের অগণিত জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘ও দুটি নয়নে স্বপনে চয়নে’, ‘এ আকাশকে সাক্ষী রেখে’, ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘ও অনুপমা ও নিরূপমা’, ‘পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার’, ‘প্রেম করেছ তুমি মন দিয়েছি আমি’, ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’, ‘যদি বউ সাজোগো’ এবং ‘পাথরের পৃথিবীতে কাঁচের হৃদয়’-এর মতো অবিস্মরণীয় সব সুর।