ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং অপতথ্য রোধের উদ্দেশ্য নিয়ে ঝালকাঠিতে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা প্রশাসন ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাউছার হোসেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।
সভায় টিআইবির পক্ষ থেকে ঝালকাঠির সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলোর হালনাগাদ সংক্রান্ত একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, জেলার মোট ৬৭টি সরকারি ওয়েব পোর্টালের মধ্যে মাত্র ১০টিতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য হালনাগাদ রয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনটি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে কোনো ধরনের তথ্যই পাওয়া যায়নি। সরকারি দপ্তরের নোটিশ বোর্ড, সর্বশেষ খবর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে নোটিশ ও খবরের অংশগুলো নিয়মিত আপডেট না করার প্রবণতা সরকারি দপ্তরগুলোতে বেশ স্পষ্ট বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সনাক সদস্য ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রশিদ। এতে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী জনগণের তথ্য পাওয়ার আইনি অধিকার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সাথে নাগরিকদের জন্য তথ্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিফাত আহমেদ, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার এবং টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সরকারি পোর্টালে সময়োপযোগী তথ্য থাকলে নাগরিকরা দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সুযোগ কমে আসবে। নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন তিনি। এছাড়া সভায় তথ্য অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

