চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে বন্দী খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন আবারও নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার ৫ অক্টোবর দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে আসামির আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম আদালতে জামিন শুনানি করেন। শুনানিকালে আইনজীবীর দাবি, সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবে ডন ভিলেন নন এবং এই মামলায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জামিন আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম রিপোর্টসহ ভিসেরা ও রাসায়নিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডন জামিনের উপযুক্ত বলে দাবি করা হয়। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এর আগে ১২ আগস্টও আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
গত ৯ আগস্ট সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগ ডনকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন। সালমান শাহ হত্যা মামলার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় সালমান শাহ মারা যান। শুরুতে বিষয়টিকে আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ বছর ধরে চলমান এই আলোচিত মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

