জাতীয় লিগ: বরিশালের বিপক্ষে খুলনার জয়, সেঞ্চুরিতে উজ্জ্বল ব্যাটাররা

জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় দিনেই বড় জয় তুলে নিয়েছে খুলনা বিভাগ। মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বাধীন দলটি বরিশালকে ইনিংস ও ১৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। প্রথম ইনিংসে খুলনা ৪২৬ রান সংগ্রহ করেছিল, যেখানে কালাম সিদ্দিকী অলিন ৯২ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৮৯ রান করেন। জবাবে বরিশাল প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে যায়। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দলটি ১৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। খুলনার হয়ে সফর আলী চার উইকেট এবং শেখ পারভেজ জীবন দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ছয়টি উইকেট শিকার করে জয় নিশ্চিত করেন। খুলনায় দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের ফলাফল অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। বরিশালের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর। ব্যাট হাতে হাফিজুর রহমান সেই চেষ্টাটা করে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পারেননি।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা ও রংপুরের লড়াইয়ে ব্যাটারদের দাপট দেখা গেছে। ঢাকা প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রান করেছে। এই ইনিংসে তাইবুর রহমান ১০৮ রান করে নিজের ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। তার সঙ্গী সুমন খান ১০৬ রানের ইনিংস খেলে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও আউট হন। রংপুরের পক্ষে স্বাধীন ইসলাম, আবু হাশিম, ইকবাল হোসেন ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দুটি করে উইকেট নেন। মিরপুরে তাইবুরের সেঞ্চুরি, ঢাকার কামব্যাক।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে রংপুর ৩ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৬ রান সংগ্রহ করে। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪০ রান করেছিল তারা। দিনের শেষ সেশনে ঢাকার বোলাররা দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে রংপুরের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে রংপুর ৬২ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে আছে। তবে তাইবুর রহমানের সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে তৃতীয় দিন শেষে কেবল ৬ ওভার ১ বল ব্যাটিং করতে পেরেছে রংপুর।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাদিকুর রহমান সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আগের দিন অপরাজিত ৮৬ রান করা সাদিক আজ শতক পূরণ করেন, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। মাহমুদুল হাসান জয়ের পাশাপাশি সাদিকের ব্যাটে ভর করে চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রান করেছে। দলের হয়ে অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ৮৬ ও তাসামুল হক ৫০ রান সংগ্রহ করেছেন। রাজশাহীর হয়ে এসএম মেহরব হাসান চার উইকেট পেয়েছেন। জবাবে রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করেছে এবং ১৭ রানের লিড নিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট পাওয়া সফর আলী এই ইনিংসে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

সিলেটে তৃতীয় দিন শেষে ১৩২ রানের লিড নিয়েছে ময়মনসিংহ। আগের দিন ২৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া সিলেট আজ ৩২৭ রানে অলআউট হয়েছে। আসাদুল্লাহ আল গালিব ৬৭ ও তোফায়েল আহমেদ ৫৯ রান করেন। ময়মনসিংহের বোলার আজিজুল হাকিম রনি চার উইকেট শিকার করেন। ময়মনসিংহের প্রথম ইনিংস ছিল ৩১১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৮ রান যোগ করেছে ময়মনসিংহ। দিন শেষে খালিদ হাসান ৫৭ রান করে আউট হয়েছেন। মাহফিজুল ইসলাম রবিন দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবেন। আগের দিনের ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে দিন শুরু করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১২৬ রান যোগ করেন তাইবুর এবং সুমন খান।