প্রথম জি১ জয়ের পর দুবাই অভিযানে ব্রিটিশ জকি মিচেল

প্রথমবারের মতো গ্রুপ ওয়ান (G1) রেস জয়ের দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে দুবাইয়ে নতুন এক রোমাঞ্চকর অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ জকি জ্যাক মিচেল। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ ওয়ান গ্রোসার প্রেইস ভন ব্যাডেন’ প্রতিযোগিতায় স্যাড্যাড-এর পিঠে চড়ে এই অবিস্মরণীয় জয় পান। প্রয়াত শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুমের রঙের ঘোড়া নিয়ে আসা এই সাফল্যের রেশ কাটার আগেই আগামী ২৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে পা রাখছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সফরে মিচেল মূলত সফল ট্রেইনার সাইমন ক্রিসফোর্ডের আস্তাবলের হয়ে কাজ করবেন। এই আস্তাবলটি সম্প্রতি ফেয়ার গ্লেন-এর হাত ধরে দুবাই ওয়ার্ল্ড কাপ নাইটে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। সাইমনের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মিচেল বলেন, আমি সাইমনের সাথে কাজ করতে মুখিয়ে আছি। এই আস্তাবলের সাথে আমার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক এবং অনেক চমৎকার সাফল্য রয়েছে। আমি মূলত ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করব, তবে সাইমনের যখনই প্রয়োজন হবে আমি তার হয়ে রেসে অংশ নেব।

রেকর্ড অনুযায়ী, দুবাইয়ের ট্র্যাকে মিচেল মাত্র দুবার অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জি২ (G2) দুবাই গোল্ড কাপে জার্মান ঘোড়া সিসফাহানের হয়ে লড়ে সপ্তম স্থান পেয়েছিলেন তিনি। তবে নিয়মিত দর্শনার্থী হিসেবে এই শহরটি তার বেশ চেনা। মিচেল বলেন, আমি এর আগে বহুবার এখানে ছুটিতে এসেছি এবং জায়গাটি আমার দারুণ পছন্দ। গত চার-পাঁচ বছর ধরেই এখানে আসার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ব্যস্ততা এবং সন্তানরা ছোট থাকায় তখন হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া তখন নিজ দেশে অল-ওয়েদার ট্র্যাকে ভালো ঘোড়া পাওয়ায় দেশেই থেকে যাওয়া সহজ ছিল।

নিজের বয়স এবং ক্যারিয়ারের এই নতুন বাঁক নিয়ে মিচেল বলেন, আমার বয়স এখন ৩৭, ২১ বছর নয়। ইংল্যান্ডে ফিরে আবার আগের অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা থাকেই। তবে আমি মনে করি দেশের কাজগুলো বেশ সুরক্ষিত। আর এই গ্রুপ ওয়ান জয়টি আমাকে দেশে ফেরার পর আরও ভালো অবস্থানে রাখবে, তাই বাড়তি কোনো চিন্তা নেই।

কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় এই জয়টি মিচেল পেয়েছিলেন তার অন্যতম বড় সমর্থক ট্রেইনার রজার ভ্যারিয়ানের মাধ্যমে। সেই জয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমাদের ভালো আত্মবিশ্বাস ছিল কারণ ফর্ম অনুযায়ী আমাদের মূলত কেবল গিয়াভেলোত্তোকে হারাতে হতো। জার্মানিতে আমার আগের অভিজ্ঞতা থাকায় ট্র্যাক ও অন্য রাইডারদের সম্পর্কে ধারণা ছিল। রেসের আগে আমি বেশ শান্ত ছিলাম। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও আমি ক্যামেরাম্যানকে দেখার আগে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি।

যুক্তরাজ্যের একমাত্র জকি হিসেবে মিচেলের পাইলট লাইসেন্স রয়েছে। দুবাই সফরের বাড়তি অবসর সময়ে তিনি এই ওড়ার শখ মেটাতে চান। যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে সাত দিনই রেসের ব্যস্ততা থাকে, যা দুবাইয়ে কিছুটা শিথিল। মিচেল রসিকতা করে বলেন, দেশের ব্যস্ততা অবশ্যই ভালো, তবে বরফশীতল মাইনাস ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মাত্র একটি রেসের জন্য নিউক্যাসল যাওয়ার চেয়ে দুবাইয়ে সপ্তাহে তিন-চারটি রেসে অংশ নেওয়া অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

ছুটির দিনগুলো কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি প্যাডেল টেনিস খেলা শুরু করব, যা সবাই করতে বলেছে। এছাড়া গলফ খেলা এবং আবুধাবি বা রাস আল খাইমাহর কোনো ফ্লাইং স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সবই প্রস্তুত আছে।

দুবাইয়ে রেসের জন্য শীর্ষ এজেন্ট কার্ল হজসনের সাথে চুক্তি করেছেন মিচেল, যেখানে তার ন্যূনতম রাইডিং ওজন থাকবে ৫৫ কেজি। থরোব্রেডের পাশাপাশি অ্যারাবিয়ান ঘোড়া চালনারও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দুবাইয়ের ডার্ট বা কর্দমাক্ত ট্র্যাক নিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন চ্যালেঞ্জ, তবে জকি হিসেবে আমাদের দক্ষতার আরেকটি দারুণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এটি।