মরুর উত্তাপে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট মিশনে শান্তর দল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আজ বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এই তীব্র উত্তাপের মধ্যেই টেস্ট ফরম্যাটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের অপেক্ষায় আছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। তবে আবহাওয়া বা পরিবেশ নিয়ে কোনো বাড়তি অজুহাত দিতে নারাজ টাইগার অধিনায়ক। খেলোয়াড়রা আগেভাগে সেখানে পৌঁছে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অধিনায়ক শান্তর মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি এখন অতীত, তাই নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তার বিশ্বাস, কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝে তার দল লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। উত্তপ্ত মরুর বুকে টেস্ট চ্যালেঞ্জে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই আমাদেরও সেভাবেই পরিকল্পনা করতে হবে।

উইকেটের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শান্ত জানান, তিনি মাঠ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং উইকেট কিছুটা ধীরগতির হলেও ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করছেন। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিজের অনুরাগ প্রকাশ করে শান্ত বলেন, একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ছোট সংস্করণের চেয়ে বড় ফরম্যাটের ম্যাচ বেশি খেলতে আগ্রহী। তীব্র গরমের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি খেলারই অংশ এবং দলের সদস্যরা এটি নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং গত দুদিন পুরোদমে অনুশীলন করেছেন বলে জানান। উইকেটের চরিত্র প্রসঙ্গে শান্ত জানান, ‘গতকাল উইকেটটা একটু দেখার সুযোগ হয়েছে। ফরম্যাট প্রসঙ্গে শান্ত যোগ করেন, ‘এখনকার সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত রাখা কঠিন, কিন্তু আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। আমরা যখন বেড়ে উঠেছি, তখন সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি।

বাংলাদেশ দলের উন্নতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শান্ত বলেন, গত কয়েক বছরে টেস্টে বাংলাদেশ ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। তবে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে ভালো খেলা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুই ক্রিকেট বোর্ডের চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেস্ট সংস্করণে মুখোমুখি হওয়ার জন্য তারা রোমাঞ্চিত। দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় তুলে নিতে চাইবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত, এর আগে দুই দেশ দুটি টেস্ট ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলের জয়ের পরিসংখ্যান ১-১ সমতায় রয়েছে।

দুই দলের অতীত লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা যায়, এর আগে অনুষ্ঠিত ম্যাচ দুটির স্মৃতি ভিন্ন ভিন্ন। চট্টগ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত টেস্টে আফগানিস্তান ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। সেই ম্যাচে ব্যাটে-বলে অনবদ্য ছিলেন রশিদ খান। তবে চার বছর পর মিরপুরের ফিরতি লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে আফগানদের হারিয়েছিল। টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই জয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। চট্টগ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত টেস্টে ২২২৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় আফগানিস্তান।

মরুভূমির কঠিন কন্ডিশনে দুই দলের এই প্রথম টেস্ট লড়াইয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও লড়াইয়ের আভাস স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে সর্বোচ্চ ২৭০ রান করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত, যার মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুমিনুল হক চার ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন ১৯১ রান। আফগানদের বোলিং আক্রমণে রশিদ খান দুই ইনিংসে ১১টি উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে চার ইনিংসে ৮ উইকেট শিকার করে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।