সালমানের সিনেমার আইনি জটিলতা: দিল্লির আদালতে প্রশ্নের মুখে এখতিয়ার

বলিউড অভিনেতা সালমান খানের জীবন ও ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘কালা হিরাণ: ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ নিয়ে আইনি লড়াই এখন চরমে। সিনেমাটির প্রচার ও মুক্তি স্থগিতের আবেদন জানিয়ে সালমান খান দিল্লি হাই কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে এই মামলায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে প্রযোজক অমিত জানির একটি আবেদনে। তিনি দাবি করেছেন, দিল্লির আদালতে এই মামলা পরিচালনার কোনো বিচারিক এখতিয়ার নেই। সালমানের অভিযোগ, ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা ও তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে।

প্রযোজকের আইনজীবীর যুক্তি অনুযায়ী, সালমান মুম্বাইয়ের বাসিন্দা এবং অমিত জানির বাস উত্তর প্রদেশের মিরাটে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কেউই দিল্লিতে থাকেন না বা সেখানে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না, তাই শুধু দিল্লিতে সিনেমার প্রচারসামগ্রী বা টিজার প্রকাশের ভিত্তিতে দিল্লি হাই কোর্ট এখতিয়ার দাবি করতে পারে না। প্রযোজকের মতে, মামলাটি খারিজ হওয়া উচিত। শুক্রবার বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ প্রযোজকের এই দাবির প্রেক্ষিতে সালমান খানের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

সালমান খানের অভিযোগ, সিনেমাটিতে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাঁর ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া টিজারে তাঁর নাম, বাচনভঙ্গি, চালচলন এবং অভিনীত সিনেমার আবহ হুবহু অনুকরণ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অভিনেতা দাবি করেছেন, হরিণ শিকারের চারটি মামলার মধ্যে তিনি তিনটিতেই খালাস পেয়েছেন এবং বাকি আপিলগুলো রাজস্থান হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাঁর ভয়, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সিনেমায় নাটকীয় উপস্থাপন নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে পারে। এখন ১৬ ডিসেম্বরের শুনানিই নির্ধারণ করবে এই আইনি লড়াই কোন দিকে গড়াবে। এ অবস্থায় সিনেমায় বিচারপ্রক্রিয়াকে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হলে নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।