যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মুখে শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় ১১তম গ্রেডের এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে এই পরীক্ষায় তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল।
পরীক্ষা স্থগিতের খবরে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সারাদেশ থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা। শনিবার সকাল থেকেই মতিঝিল, শাপলা চত্বর, বাংলা কলেজ ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। অনেক পরীক্ষার্থী দাবি জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া নতুন পরীক্ষার তারিখ দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থীরা জানান, নিয়োগ পরীক্ষার এই আকস্মিক বাতিলের ফলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রুমা রানা নামের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, জেলা শহরগুলো থেকে ধারদেনা করে এবং সারারাত ভ্রমণ করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসেন। পরীক্ষা শেষে তাদের আবার বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের খবর তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাতভর ভ্রমণ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরিশ্রম, আর্থিক ক্ষতি ও ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের দায় কে নেবে। রাষ্ট্র কেন এখনো প্রশ্নফাঁস চক্রের লাগাম টানতে পারছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন রুমা রানা।
পরীক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। দাবি আদায়ে অনেক জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম জানান, বিক্ষোভ সামলাতে ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পরবর্তী পরীক্ষার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি, যা পরীক্ষার্থীদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

