না ফেরার দেশে সোনালী যুগের অভিনেত্রী নাসিমা খান

ঢালিউডের সোনালী যুগের পরিচিত মুখ, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খান জীবনের মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছিলেন এই গুণী অভিনেত্রী। গত কয়েক দিন আগে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তাকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই প্রবীণ শিল্পীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে।

চলচ্চিত্র জীবন ও কর্মের সূচনা

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে পদার্পণের নেপথ্যে কাজ করেছিলেন অভিনেতা আনিস। তৎকালীন সময়ে ঢাকায় সুলতানা জামান, রওশন আরা ও সুমিতা দেবীর মতো অভিনেত্রীরা ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন, তাদের ভিড়ে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরিতে পরিশ্রম করেছেন নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদারের পরিচালনায় ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি রূপালী পর্দায় প্রথম পা রাখেন। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও পুরস্কৃত হয়েছিল। একই বছর বেবী ইসলামের উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে মেলে ধরেন, যেখানে তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও শামীম আরা। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় নায়িকা হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হন তিনি। এতে তার বিপরীতে ছিলেন অভিনেতা আনিস, যার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।

সোনালী যুগের গৌরবময় অধ্যায়

  • ষাটের দশক থেকে শুরু করে আশির দশকের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি বাংলা ও উর্দু ভাষার অসংখ্য সিনেমায় সমান তালে অভিনয় করেছেন।
  • অভিনয় ক্যারিয়ারে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ এবং ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’-এর মতো প্রশংসিত সব সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন।
  • বাংলা চলচ্চিত্রের ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে যে কয়েকজন অভিনেত্রী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, নাসিমা খান তাদের মধ্যে অন্যতম।

দীর্ঘদিন সিনেমা থেকে দূরে থাকার পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে শেষবারের মতো তাকে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র শিল্পের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় ঢালিউড পাড়ায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহশিল্পী ও ভক্ত-অনুরাগীরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।