র-সংশ্লিষ্ট দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাশকতার ছক: জুলকারনাইন শায়ের

গতকাল মধ্যরাতে দীর্ঘ নজরদারির পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। দীর্ঘ নজরদারির পর একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এই অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা

  • গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম ব্যক্তি হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ। ২০২২ সালে তাঁকে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের অন্যতম আস্থাভাজন কর্মকর্তা ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর আজিজ দেশত্যাগ করলেও দেবাশীষ দেশেই অবস্থান করছিলেন এবং আজিজ ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
  • সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে উদ্ধার হওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ‘পাওয়ার জেল’ দেশে আনার ঘটনায় দেবাশীষের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • দ্বিতীয় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা, যিনি ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ভারতীয় হ্যান্ডলার ও দেবাশীষের সঙ্গে মিলে দেশব্যাপী সংঘবদ্ধ নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা যায়, কাজী গুলশান আরা সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে রাওয়া ক্লাবে অবাধ যাতায়াত করতেন এবং যেকোনো সময় সেনানিবাসে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিনি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৯ সালে তাঁকে সব সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর সূত্র ধরেই তিনি বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলকারনাইন শায়ের গতকাল মধ্যরাতে তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই নাশকতার ষড়যন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উন্মোচনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও অন্যান্য নথিপত্র বিশ্লেষণ করে তাদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার কাজ চলছে। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই মামলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো, মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ ‘। অভিযানে উঠে এসেছে, পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পক্ষে তাঁরা কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন এবং গোপন হামলার ছক কষছিলেন। আজিজের সরাসরি হস্তক্ষেপে নোটশিটের মাধ্যমে তিনি পদোন্নতি পান। আজিজই তাঁকে ডিজিএফআই ও আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের মতো স্পর্শকাতর সংস্থায় নিজের হয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। দর্শকের ভালোবাসা আমাকে আরও বড় জায়গায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়: শাকিব খান।