যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগী হয়ে ওঠেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। ক্যারিয়ারের ২৭ বছর কীভাবে পার হয়ে গেল তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এত ভালোবাসা পাওয়ার পর মনে হয় আরও অনেক ভালো কাজ উপহার দিতে হবে। দর্শকদের অকুন্ঠ সমর্থনই তাকে গ্লোবালি বা বিশ্ববাজারে বাংলা সিনেমার অবস্থান আরও শক্তিশালী করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কেবল সেই ভক্তদের জন্য, যারা তাকে ভালোবাসেন এবং অন্ধের মতো সিনেমা দেখেন, তাদের জন্যই নিজেকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি। সেদিন শুনলাম ২৫ বছর, শুনে অবাক হয়েছিলাম। দীর্ঘ ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাকে শক্তি করে এবার বিশ্ব জুড়ে বাংলা সিনেমার অবস্থান আরও শক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন এই অভিনেতা। তার মতে, বাংলাদেশের সিনেমা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা আরও বিস্তৃত করতে হবে।
দর্শক হৃদয়ে নিজের সিনেমার যে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে, তাকেই সাফল্যের প্রেরণা হিসেবে দেখছেন এই নায়ক। তার আন্তর্জাতিক যাত্রার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে শাকিব জানান, বছর তিনেক আগে আকাশপথে ভ্রমণের সময় সাগর ও আফজাল নামের দুজনের সঙ্গে নিজের স্বপ্নের কথা শেয়ার করেছিলেন। তিনি বরাবরই চেয়েছেন, বিশ্বের নামি ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সিনেমার পোস্টারের পাশাপাশি মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা সিনেমার পোস্টার শোভা পায়। পরে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি দেখার পর তারা সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করে বিস্তারিত লিখেছিলেন। শাকিবের মতে, ‘প্রিয়তমা’ ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র যা বিশ্বব্যাপী ব্যবসা করার মাধ্যমে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে।
বর্তমান সময়ে বাংলা সিনেমার সাফল্যের পরিধি যে বিস্তৃত হয়েছে, তাও উঠে আসে তার কথায়। তিনি জানান, ভালো সিনেমা মুক্তি পেলে এখন আর তা শুধু বাংলাদেশ বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আয়ের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশ থেকেও প্রবাসী দর্শকদের সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার ইতিবাচক খবর আসছে। এই ব্যাপক সাড়া পাওয়াকে শাকিব দর্শকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

