পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে চুয়েটে ফিরব: উপাচার্য

পদত্যাগ অথবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এমন শর্তে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ছাড়ার খবরকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি কোনো পদত্যাগপত্র দেননি বা ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতিও দেননি। তার বক্তব্য না নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করায় তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উপাচার্য জানান, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকার কারণে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় তিনি কথা বলার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না। তিনি জানান, ওই অবরোধের সময় তারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সোমবার রাতে অসুস্থ দুই সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। উপাচার্য জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময়ে সেখানে অবস্থানরত আরও কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই তিনি চুয়েটে যোগ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত বা দলীয় কোনো স্বার্থ তার নেই, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সুস্থ হয়ে তিনি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। ইনশা আল্লাহ, শীঘ্রই তার কর্মস্থলে ফেরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ কোনো এজেন্ডা কিংবা দলীয় উদ্দেশ্য তার আসার পেছনে ছিল না।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য আহ্বান জানান, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় পড়ে যেন তারা নিজেদের শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক ক্ষতি না করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের ছোট ভাই-বোন সম্বোধন করে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শেই তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।