বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সাত দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাসিমা খানের জীবন ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে ঘেরা। গত ফেব্রুয়ারিতে তার ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত ছিলেন। ছেলের খোঁজ পেতে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তানকে ফিরে পাওয়ার সেই আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হলো না, ছেলেকে না পাওয়ার চরম কষ্ট নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি। তার বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বড় ছেলে দেশে ফেরার পর আগামী ১৫ই অক্টোবর তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। তিনি ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকায় বসবাস করতেন।
১৯৪৪ সালের ৬ই আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খানের পরিবারে বেড়ে ওঠার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। কামরুন্নেসা স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন তিনি।
ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় বড় পর্দায় নাসিমা খানের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়, যা মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপদক জিতেছিল। এরপর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য়ও তিনি অভিনয় করেন। তবে ১৯৬১ সালে সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তীকালে ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’ ও ‘উজালা’র মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এই অভিনেত্রী।

