কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫১৯ জন আটক

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং উঠতি বয়সী ছেলেদের উৎপাত রয়েছে—এমন এলাকাগুলোতে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে। মূলত অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে জেলায় কিশোর অপরাধ নির্মূলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসার পর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়।

এর আগে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ৮ অক্টোবর ষষ্ঠ দফায় ২৫২ জন এবং ১১ অক্টোবর সপ্তম দফায় ৩৫৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট আট দফায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং বাকিদের বিরুদ্ধে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং কতজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে কুমিল্লায় ‘পিএক্স ১০’ ও ‘১২০৭’সহ বিভিন্ন নামে সক্রিয় কিশোর অপরাধী চক্রগুলোর ওপর পুলিশের বিশেষ নজর রয়েছে। অভিযানে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্কতা অবলম্বন করছে। ‘পিএক্স ১০’ ও ‘১২০৭’ নামে দুটি কিশোর গ্যাং কুমিল্লার দুই উপজেলায় তৎপর। কুমিল্লার আতঙ্ক ‘আর স্কোয়াড’, রতনের গ্রেপ্তারে কি থামবে কিশোর গ্যাং। কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতার মিছিলে ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ রতন, ভিডিও ভাইরালের পর সমালোচনা।

উল্লেখ্য, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচাই করেই প্রতিটি ক্ষেত্রে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।