মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী জনসভায় মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। শুক্রবার জর্জিয়ার ডাল্টন মিউনিসিপাল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে দ্বিধা থাকলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, তিনি বহু বছর ধরে এটি করে আসছেন এবং কখনোই ভুল প্রমাণিত হননি। মুসলিম বিশ্বে ইসলামের মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এই নামটি বহুল প্রচলিত। জর্জিয়ার ডাল্টনে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে যদি আপনার মনে দ্বিধা থাকে, তবে কেবল “মোহাম্মদ” বলে ডাক দিন। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ সবচেয়ে সাধারণ পুরুষ নামগুলোর একটি। মুসলিমরা প্রায়শই ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামানুসারে তাঁদের ছেলেদের নাম রাখেন।
ইরান নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এমন একটি দেশ যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না। এ সময় তিনি কাল্পনিকভাবে বেশ কয়েকজন ‘মোহাম্মদ’কে প্রশ্ন করেন তারা এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কি না। উল্লেখ্য, মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্পের এসব আপত্তিকর মন্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে তেমন জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের অজুহাতে আগ্রাসন চালানো হয়েছিল। ট্রাম্প এ কথা বলার পর একাধিক ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যক্তির কাছে কাল্পনিকভাবে জানতে চান, তারা এই পদটি চান কি না। তবে ডাল্টনের ওই সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর এই বিদ্রূপাত্মক কথা শুনে তেমন একটা জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন অধিকার সংগঠন ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ধারাবাহিকভাবে মুসলিম, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হেয় প্রতিপন্ন করছেন। বিশেষ করে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সোমালি ও মার্কিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার এই তালিকায় রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ এবং মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর, যিনি একসময় শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন।
কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন দমন ও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ দমনে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

