৫১তম বিসিএসের বিশেষ আবেদনের সময় আজ রোববার শেষ হচ্ছে।
চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত এই নিয়োগের পর এখন অনেক প্রার্থী ৫২তম সাধারণ বিসিএসের দিকে তাকিয়ে আছেন।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যেই এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে বিসিএসে তীব্র প্রতিযোগিতা একটি বড় বাস্তবতা। পরিসংখ্যান বলছে, ৫০তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে ২ হাজার ১৫০টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রায় ১৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন। ৪৩তম থেকে ৪৭তম বিসিএস পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় লাখো প্রার্থীর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে এখানে সুযোগ পাওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং। এমনকি ৪৭তম বিসিএসে ৩ হাজার ৬৬৩টি ক্যাডার পদের বিপরীতে যোগ্য প্রার্থী না মেলায় অনেক পদ শূন্য থেকে গিয়েছিল। অর্থাৎ মোট পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩৫ গুণ। আগের বিসিএসগুলোর তথ্যেও তীব্র প্রতিযোগিতার চিত্র স্পষ্ট। ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ জন। ৪৪তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬। ৪৫তম বিসিএসে ছিল প্রায় ৩ লাখ ১৮ হাজার এবং ৪৬তম বিসিএসে প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার। ৪৭তম বিসিএসে আবেদন করেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন। এ পরীক্ষায় ৩ হাজার ৬৬৩টি ক্যাডার পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩২০ জনকে সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ পান ২০১ জন। অর্থাৎ ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সুপারিশ করা হয় ১ হাজার ৫২১ জনকে।
বিসিএসের বাইরে সরকারি চাকরির বড় সুযোগগুলো হাতছাড়া করা উচিত নয়। পিএসসি সম্প্রতি ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৮৩–৯৬ নম্বর সমন্বিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৪টি ক্যাটাগরিতে ১৩৫ জন নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদগুলোতে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এছাড়া ৭৮–৮২ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে উচ্চতর বেতন স্কেলের বিভিন্ন পদে আবেদনের সুযোগ থাকছে, যার সময়সীমাও ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এসব পদে আবেদনের আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও অভিজ্ঞতার শর্তাবলি মূল বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করা জরুরি। ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলাবাসীর জন্য ৩৭ পদে চাকরির সুযোগ। পদসংখ্যা জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা ও পিএসসির চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পিএসসি ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৮৩–৯৬ নম্বর সমন্বিত বিজ্ঞপ্তিতে ১৪ ধরনের পদে ১৩৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পদগুলোর মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি পদ রয়েছে। সব পদ নতুন স্নাতকদের জন্য নয়; কিছু পদে নির্দিষ্ট পেশাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আবেদন শুরু ১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় এবং শেষ ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায়। আবেদন শুরু হয়েছে ১৩ অক্টোবর।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ২৭৪টি পদে নিয়োগ দিচ্ছে, যেখানে প্রশাসন, হিসাব, নিরাপত্তা ও প্রকৌশল শাখা রয়েছে। নবম গ্রেডের বেতন ৪৪,০০০ থেকে ১,০৫,৯০০ টাকা এবং দশম গ্রেডের বেতন ৩২,০০০ থেকে ৭৭,৩০০ টাকা পর্যন্ত। আগ্রহীরা ১২ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ প্রার্থীর আবেদন ফি ২২৩ টাকা। অন্যদিকে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ১৬ ধরনের পদে ২২৮ জনকে নিয়োগ দিচ্ছে। ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের এই পদগুলোতে ২০,০০০ থেকে ৫৮,০০০ টাকা বেতন কাঠামো রয়েছে, যার আবেদনের শেষ সময় ২৯ অক্টোবর। তবে কত পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর মধ্যে উপজেলা বা থানা মহিলা প্রশিক্ষিকা পদে ৯৩ জন এবং প্রশিক্ষক পদে ৭৬ জন নেওয়া হবে।
পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদেও নিয়োগ চলছে। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–২.৫০ পাওয়া ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী প্রার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। এটি ১৭তম গ্রেডের পদ, যেখানে বেতন ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা। প্রশিক্ষণকালীন থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার সুবিধার পাশাপাশি ভাতা পাওয়া যাবে। এই পদের আবেদন ফি ৬৫ টাকা এবং সময়সীমা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। পদভেদে আবেদন ফি ৫০ বা ১০০ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে বিভিন্ন কর অঞ্চলে সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষণ, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ব্যাংক জব প্রত্যাশীরা অফিসার (সাধারণ), অফিসার (ক্যাশ) ও সিনিয়র অফিসার পদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-রিক্রুটমেন্ট পোর্টালে (erecruitment.bb.org.bd) নিয়মিত নজর রাখতে পারেন। একটি আবেদনের মাধ্যমেই একাধিক ব্যাংকে নিয়োগের সুযোগ থাকে বিধায় এটি ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম বড় মাধ্যম। উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে।
সরকারি চাকরিতে মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বিধি অনুযায়ী প্রদান করা হয়। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্কেল ও শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই যেকোনো আবেদনে নাম লেখানোর আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তাবলি মিলিয়ে দেখা আবশ্যক। ক্যারিয়ারের উন্নয়নের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক পদে আবেদন করা বিসিএসের দীর্ঘ অপেক্ষার চেয়ে অনেক সময় বেশি কার্যকর হতে পারে।

