লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ লড়াইয়ের পর ৯ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সবশেষ ২০০৮ সালে কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে সেই সুযোগ নষ্টের মূল্যও দিতে হয়েছে ভালোভাবেই। কামিন্দু মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছিল তারা।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিস ও পবন রত্নায়েকের ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
কামিন্দু ১৩১ রানের দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি উপহার দেন এবং পবন রত্নায়েকে ৬৫ বলে খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস।
দুজনের ১৪৬ বলে ১৪৬ রানের জুটি ৪১ ওভারেই শ্রীলঙ্কাকে ২৫৫ রানের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। এক সময় মনে হচ্ছিল তারা হয়তো ৩৫০ রান অতিক্রম করবে, কিন্তু পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৭০ রান যোগ করতে সক্ষম হয় লঙ্কানরা। কামিন্দু ও রত্নায়েকের জুটি ভাঙার পর ৫২ রানের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কা ৫টি উইকেট হারায়। শেষ ১১ বল লেজের ব্যাটসম্যানদের খেলতে হয়, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আফ্রিদি ৫০ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন। তবে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিটাও একসময় মনে হচ্ছিল যথেষ্ট হবে না। কামিন্দু ও রত্নায়েকের জুটি ভাঙার পর ৫২ রানে হারায় ৫ উইকেট। আফ্রিদি নেন ৫০ রানে ২ উইকেট।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের শুরুটা সুখকর ছিল না। দিলশান মাদুশঙ্কার বোলিং তোপে দলীয় স্কোরে বড় কিছু যোগ করার আগেই বিদায় নেন মাজ সাদাকাত ও বাবর আজম। এরপর ফখর জামান হাল ধরেন দলের। তিনবার জীবন পাওয়া ফখর তরুণ সাদ বেগকে সাথে নিয়ে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। সাদ ৭৫ বলে ৭৪ রান করে বিদায় নেন। অন্যদিকে ফখর তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়ে তিনি ৯৯ বলে ১২৭ রান করেন, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা। মাদুশঙ্কা পুনরায় আক্রমণে এসে ফখরকে ফেরালে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। এরপর সালমান আগাও সাজঘরে ফিরলে পাকিস্তান কিছুটা চাপে পড়ে যায়। পাকিস্তানের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফখর ও সালমান আগা ফিরে গেছেন। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ফখর জামান। ১১টা চারের সঙ্গে ৬টা ছক্কা তাঁর ইনিংসে। এরপর ফখর নিজেই বদলে ফেলেন ব্যাটিংয়ের গতি।
তবে সেই চাপ কাটিয়ে জয়ের পথ তৈরি করেন হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস। তারা দুজন ৯৪ রানের জুটি গড়ে দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। বিশেষ করে আরাফাত মিনহাস ৩১ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন। মাত্র ২৮ বলে তিনি ফিফটি পূর্ণ করেন। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির মিডউইকেটের ওপর দিয়ে হাঁকানো ছক্কা পাকিস্তানের শিরোপা জয় নিশ্চিত করে। ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান তুলে উৎসবে মাতে লাহোরের দর্শকরা। শেষ মুহূর্তের ওই ২০ থেকে ২৫ রানই আসলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। লাহোরে তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা আবার একটু একটু করে উজ্জ্বল হচ্ছে। আরাফাতের ব্যাটিং দেখে মনে হলো, এসব আবার কী। তাঁর ২৮ বলে ফিফটি আর হাসানের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটিতে পাকিস্তান পৌঁছে গেল জয়ের বন্দরে। অবশ্য ভাগ্যদেবীও তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। চাপের মুখে দুজনের ৯৪ রানের জুটি ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দেয়।

