ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী

ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মো. পারভেজ ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি হাফিজউদ্দীন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পারভেজের সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে নির্যাতন ও ভরণপোষণের দাবির মুখে প্রায় নয় মাস আগে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে থাকাকালীন পারভেজ তাঁর স্ত্রীর অজান্তে একান্ত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন পারভেজ। স্ত্রী রাজি না হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পারভেজ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হাফিজউদ্দীনের সহায়তায় বাদীর নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলেন এবং সেই আইডি থেকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওগুলো প্রকাশ করেন। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে হাফিজউদ্দীনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

সোমবার রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি পারভেজকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।