সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। দিনের ৭০ ওভার ব্যাটিং করে সফরকারীরা ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ২৩৫ রান। ব্যাটার আমির জাঙ্গুর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ব্যাট হাতে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আমির জাঙ্গু অপরাজিত আছেন ১১১ রানে। তার সঙ্গে ২৬ রান নিয়ে ক্রিজে টিকে আছেন জাস্টিন গ্রিভস। দিনের তৃতীয় সেশনে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা ঠিকমতো পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে খেলা বন্ধ হয়ে গেলে আধা ঘণ্টা বিরতির পর পুনরায় শুরু হয়। তবে মাত্র ৫ ওভার পরই আম্পায়াররা আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের মতো খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন। শেষ সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৫৫ রান যোগ করেছে সফরকারীরা। দিনের তৃতীয় সেশনে খেলা হয়েছে ১৫ ওভার।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রণ জানান উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ। উইকেটের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। মিডউইকেট দিয়ে ফ্লিক করার চেষ্টা করেছিলেন কিং। এই প্রচেষ্টায় বলের গতিপথ বুঝতেই পারেননি, পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছেন। উইকেট গেলেও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই বজায় রাখে উইন্ডিজ।
হাসান মাহমুদের প্রথম ওভারে স্লিপে সাদমান ইসলাম ক্যাচ হাতছাড়া না করলে শুরুটা ভিন্ন হতে পারত।
তবে দিনের পঞ্চম ওভারে তাসকিন আহমেদ প্রথম আঘাত হানেন। ফুল লেংথের ডেলিভারিতে ব্রেন্ডন কিংকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। পরের ওভারেই হাসান মাহমুদ বোল্ড করেন কেভম হজকে। এরপর নবম ওভারে জশুয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে আরও চাপে ফেলেন তাসকিন। তাসকিনের ফুল লেংথের বলটি ভেতরের দিকে সুইং করে পিচে পড়ার পরও মুভমেন্ট ধরে রাখে। হজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পিচে পড়ে বলটি দ্রুত স্কিড করে সরাসরি আঘাত হানে মিডল স্টাম্পের মাথায়।
মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলায় ফেরান জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যাম। এই জুটি প্রথম সেশনে আর কোনো বিপদে না পড়ে ৮৬ রান সংগ্রহ করে লাঞ্চে যায়। লাঞ্চ পরবর্তী সময়েও ব্যাটাররা দৃঢ়তা দেখান। ১২৭ রানের এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। লেংথের বলে বোল্ড হয়ে উইকহ্যাম বিদায় নেন ১৪৫ বলে ৬১ রান করে। বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করে জুটিটা ১২৭ রান পর্যন্ত নিয়ে যান তারা।
চা বিরতির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮০ রান। বিরতির পর আমির জাঙ্গু তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। চাপ সামলে ১৪৯ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান তিনি। তাইজুল ইসলামের বলে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছক্কা মেরে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

