সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পেসার হাসান মাহমুদের জাদুকরী বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ হয়ে যায়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর আস্থার প্রতিদান দিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই পেসার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে প্রথম ইনিংসে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই রান পাহাড়ে চড়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল অবশ্য বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে। দিনশেষে টাইগারদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে মাত্র ৮৮ রান। তাওহীদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহীম ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে আবার ব্যাট করতে নামতে হবে। ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন দু’জন। তবে শাহাদাতের চেয়ে অনেক কম ম্যাচ খেলেই তাকে ছাড়িয়ে গেছেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।
ব্যাট হাতে নেমে শুরুতেই বড় সংকটের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ২২ রান তুলতেই দলের দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। ইনজুরিতে পড়া সাদমান ইসলামের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া নাঈম হাসান জেইডেন সিলসের শিকার হন ৬ বলে ৫ রান করে। এরপর তানজিদ হাসান ৩৩ বলে ১৬ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের বলে আউট হন। দলের হাল ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত; ৬৫ বলে ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৫১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহীম চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে ৩৭ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চতুর্থ উইকেটে এখন পর্যন্ত ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুজন। ওপেনার সাদমান ইসলাম চোটে পড়ায় তাকে ওপেনিং এ পাঠায় টিম ম্যানেজম্যান্ট। ব্যক্তিগত ৫১ রানে তিনি মিরাজের বলে বোল্ড হলে ৩০১ রানে অষ্টম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে, দ্বিতীয় দিনে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে আরও ১২১ রান যোগ করে। পেসার হাসান মাহমুদ একাই ধসিয়ে দেন ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং। তিনি জাঙ্গুকে বোল্ড করে ১০৬ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙেন। ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা জাঙ্গু ১৩টি চার ও দুটি ছক্কা মারেন। ২৬৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর হাসান মাহমুদ তার পরের বলেই রোস্টন চেজকে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী করেন। সেই মুহূর্তেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তবে জশুয়া বিশপের এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলেও পরবর্তীতে রিভিউতে ব্যাটের কানা ছোঁয়ার প্রমাণ মেলায় তিনি বেঁচে যান। অল্পের জন্য হ্যাটট্রিক না পেলেও লাঞ্চের আগেই বিশপকে আউট করে নিজের পঞ্চম উইকেটের দেখা পান হাসান। এরপর লিটনের অসাধারণ স্টাম্পিংয়ে জাস্টিন গ্রিভসকে সাজঘরে পাঠিয়ে তিনি ফাইফার পূর্ণ করেন। সিলেট টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের ছয় ব্যাটারকে ফিরিয়ে অনন্য কীর্তি গড়েন এ ডানহাতি পেসার। ১৩৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৩ চার ও ২ ছক্কা মারেন জাঙ্গু। রিপ্লেতে দেখা যায়, প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের ভেতরের কানা ছুঁয়েছে বল।
এই ফাইফারের মাধ্যমে হাসান মাহমুদ অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টেস্ট খেলুড়ে পাঁচটি ভিন্ন দলের বিপক্ষে ফাইফার নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার নাথান লিয়নের পর তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার। এছাড়া ক্যারিয়ারের মাত্র ১৯ টেস্ট খেলে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি শাহাদাত হোসেন রাজীবকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এককভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন। শাহাদাতকে এই রেকর্ড গড়তে প্রায় দশ বছর ও ৩৮টি ম্যাচ খেলতে হয়েছিল। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ১৯ বার করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি এখনো সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের দখলে রয়েছে। হাসানের ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারি ঠিকঠাক খেলতে পারেননি তিনি। প্রায় ১০ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৮ ম্যাচের ৬০ ইনিংসে চারবার পাঁচ উইকেট নেন শাহাদাত। অবশ্য হাসানের এই উইকেট পাওয়ার পেছনে লিটনকে কৃতিত্ব দেয়া যায়। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষেও এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি গ্রিভস।
ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন। তবে শেষ দিকে ওয়ারিক্যান ২৭ রানে অপরাজিত থেকে জোসেফ ও সিলসকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫৫ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ ওভারে ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট।

