বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাকে দিঘীরপাড় কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
জানাজায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে, গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে একটি কুমির শিশু ফাতেমাকে কামড়ে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। ফাতেমার আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
তবে অনেক চেষ্টা করেও তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে মঙ্গলবার ভোর রাতে মহিলা ঘাটের অদূরে দিঘি থেকে ফাতেমার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাতেমা মাজার এলাকায় বসবাসকারী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। সে তার মায়ের সঙ্গেই মাজার প্রাঙ্গণে থাকত।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানি বিনা বেগম জানান, ফাতেমা প্রায়শই তার দোকানের আশেপাশে সময় কাটাত। ঘটনার রাতে তার চোখের সামনেই কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এলেও তাকে রক্ষা করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে ফাতেমা বারবার হাত উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা করছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন সাংবাদিকদের জানান, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “মাজারের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে একই দিঘি থেকে একটি অসুস্থ কুকুরকে কুমির টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সর্বশেষ শিশু ফাতেমার এই মর্মান্তিক মৃত্যু দিঘি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
