বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এ ইরান জাতীয় দলের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পূর্বে এমন খবর প্রচারিত হয়েছিল যে ইরান দলকে তাদের ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং সেদিনই দেশটি ছাড়তে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নিশ্চিত করেছে যে, মেক্সিকোর টিহুয়ানায় বেইস ক্যাম্প স্থাপনকারী ইরান দল তাদের বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচের প্রতিটির আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
এর আগে, মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যে, ইরান দলকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। এই বিষয়টি নিয়ে তখন নানা প্রশ্ন উঠেছিল। মঙ্গলবার ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এই খবরটিকে অসত্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই খবরগুলো অসত্য। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উদারতার জন্য ইরান দল তাদের ম্যাচের আগের দিন (যুক্তরাষ্ট্রে) পৌঁছতে পারবে।”
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রথম ম্যাচের ১০ দিন আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সব খেলোয়াড়কে ভিসা দিলেও, ‘ম্যানেজার ও প্রধান কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে’ ভিসা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে এই অনিশ্চয়তার কারণে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন তাদের দলের বেইস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সংলগ্ন মেক্সিকোর টিহুয়ানায় নিয়ে আসে। তিন সপ্তাহ তুরস্কে অনুশীলন সম্পন্ন করার পর গত রোববার ভোরে ইরান দল টিহুয়ানায় পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, দেশটিতে গিয়ে খেলতে আপত্তি জানিয়েছিল ইরান। সে সময় বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানকে স্বাগত জানানো হবে, তবে তিনি মনে করেন না ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য’ ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে থাকাটা সমীচীন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপ আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলবে; ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। তাদের পরের ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
