গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ হিসেবে পরিচিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সূচনা যে এমন নাটকীয়তায় ভরা থাকবে, তা হয়তো ফুটবলপ্রেমীরা কল্পনাও করেননি। বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী দিনটি মাঠের খেলার চেয়ে রেকর্ড সংখ্যক লাল কার্ড এবং রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের গল্পে মুখরিত ছিল। টুর্নামেন্টের সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো তাদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শুভ সূচনা করলেও, এই ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বে কার্ডের ছড়াছড়ির কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এক দুর্দান্ত ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: লাল কার্ডের ছড়াছড়ি
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি গোল বা ফুটবলীয় নৈপুণ্যের চেয়ে খেলোয়াড়দের চরম শৃঙ্খলাহীনতার কারণে বেশি আলোচনায় আসে। ম্যাচের রেফারি, ব্রাজিলের উইলটন সাম্পাইও, যেন পকেট থেকে একের পর এক লাল কার্ড বের করার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। পুরো ম্যাচে তিনি সরাসরি তিনটি লাল কার্ড দেখান, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তোলে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোল ও থেম্বা জোয়ানের পাশাপাশি মেক্সিকোর সেসার মন্তেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেও মেক্সিকোর হয়ে ম্যাচের নবম মিনিটে টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি করেন হুলিয়ান কুইনোনেস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের পায়ের মাঝখান দিয়ে বল জালে পাঠান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেসের দুর্দান্ত এক হেডে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র: রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন
দিনের অন্য ম্যাচে গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে দেখা মেলে আসল রোমাঞ্চের। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেচির গোলে প্রথমে লিড নেয় চেক প্রজাতন্ত্র। তবে এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া এতে দমে যায়নি। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দের তারকা হুয়াং ইন-বিওমের অসাধারণ এক গোলে সমতায় ফেরে কোরিয়ানরা। এরপর ম্যাচের ৮০ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হুয়াংয়ের বাড়ানো দুর্দান্ত এক ক্রসে পা ছুঁইয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ওহ হিয়ন-গিউ। পুরো ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়ের নায়ক বনে যান হুয়াং ইন-বিওম। গুয়াদালাহারার গ্যালারির বেশ কিছু আসন খালি থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না।
