আদালতের নির্দেশে কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করার পর শনিবার কর্মীরা ভবনের বাইরের অংশসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ করেন।

কেনেডি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা আদালতে জমা দেওয়া নথিতে নিশ্চিত করেছেন যে, ভবনের অভ্যন্তর ও বাইরের সব সাইনবোর্ড, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, অফিসিয়াল নথি এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আদালতের আদেশ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শনিবার সকাল পর্যন্ত ভবনের সম্মুখভাগের কিছু অংশ সাদা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। কর্মীরা সেখানে স্থাপিত অক্ষরগুলো খুলে ফেলার কাজ চালিয়ে যান। আশপাশের অনেক উৎসুক জনতা এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন এবং কেউ কেউ মোবাইল ফোনে এর ভিডিও ধারণ করেন।

এর আগে, কেন্দ্রের ট্রাম্পপন্থী পরিচালনা পর্ষদ আদালতের নির্দেশ স্থগিত করার জন্য শেষ মুহূর্তে একটি আবেদন করেছিল, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আপিল আদালতও তাদের জরুরি আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নাম অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

আদালতের রায় এবং কারণ

গত ২৯ মে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার এক রায়ে ঘোষণা করেন যে, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৪ সালে কংগ্রেস আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম জন এফ. কেনেডির নামে নির্ধারণ করেছিল এবং কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এই নাম পরিবর্তন করতে পারে না। বিচারক প্রশাসনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সব স্থান থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশের অংশ হিসেবে, কয়েক দিন আগেই কেনেডি সেন্টারের ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক নথি থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। এরপর ভবনের বাইরের অংশে থাকা বড় অক্ষরগুলো সরানোর কাজ শুরু হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত বছরের ডিসেম্বরে, ট্রাম্প-সমর্থিত পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত শেষ পর্যন্ত রায় দেয় যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল কংগ্রেসই নিতে পারে। এই রায়ের ফলে ঐতিহাসিক এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি আবারও তার মূল নামেই ফিরে যাচ্ছে।