চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় একটি শিশু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে এবং মামলা দায়েরের ২৬ দিনের মধ্যেই এই দ্রুত রায় প্রদান করা হলো।
এর আগে গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি গুদামঘরে এই শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা তাকে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ অত্যন্ত কৌশলে আসামিকে জনতার কাছ থেকে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ২২ মে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। এরপর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ তদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয় ৯ জুন। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা অভিযোগ গঠন করেন। পরদিন ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়, যার একদিন পরই রায় ঘোষণা করা হলো।

