টাইব্রেকার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা
বিশ্বকাপ ফুটবলে পেনাল্টি শ্যুটআউট বা টাইব্রেকারকে আরও বেশি কার্যকর এবং ন্যায়সঙ্গত করে তোলার লক্ষ্যে নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার সবচেয়ে নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো পেনাল্টি শ্যুটআউট। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, আর সেখানেও কোনো ফয়সালা না হলে বিজয়ী নির্ধারণের একমাত্র উপায় হয় টাইব্রেকার।
এবারের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২ যুক্ত হওয়ায় নকআউট ম্যাচের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে আগের যেকোনো আসরের তুলনায় বেশি ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় টাইব্রেকারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ফিফা নতুন নিয়মের পথে হাঁটছে। আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর আগেই ফিফা বিষয়টি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাচ্ছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পেনাল্টি শ্যুটআউটের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হয়েছিল, যেখানে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। একই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকেও টাইব্রেকারে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
কয়েন টস প্রক্রিয়ায় আসছে পরিবর্তন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ফিফা এই পরিবর্তনের প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা আইএফএবি-এর কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি মূলত পেনাল্টি শ্যুটআউটের আগে অনুষ্ঠিত কয়েন টস প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শ্যুটআউটের আগে দুটি কয়েন টস করা হয়। প্রথম টসের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় কোন গোলপোস্টে পেনাল্টি নেওয়া হবে এবং দ্বিতীয় টসের মাধ্যমে ঠিক করা হয় কোন দল প্রথমে শট নেবে। তবে নতুন প্রস্তাবে দুটি টসের পরিবর্তে মাত্র একটি কয়েন টস রাখার কথা বলা হয়েছে।
এই নিয়ম কার্যকর হলে টসে জয়ী দল তাদের পছন্দমতো একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে। তারা চাইলে প্রথমে পেনাল্টি নিতে পারে, অথবা কোন গোলপোস্টে শ্যুটআউট হবে তা নির্বাচন করতে পারবে। এরপর অপর দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাকি বিকল্পটি গ্রহণ করবে। ফিফার মতে, এই পরিবর্তন শ্যুটআউটকে আরও কৌশলগত করে তুলবে, কারণ টসে জয়ী দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা সরাসরি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে চলমান বিশ্বকাপেই লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনের মতো মহাতারকারা পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও কেইন দ্বিতীয় সুযোগে গোল আদায় করে নিয়েছিলেন, কিন্তু এসব ঘটনাই প্রমাণ করে যে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের জন্যও পেনাল্টির চাপ কতটা কঠিন হতে পারে।
সাডেন ডেথ ও শ্যুটআউটের নিয়ম
নতুন এই নিয়মের প্রস্তাব এলেও পেনাল্টি শ্যুটআউটের বাকি কাঠামোর কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের মতোই দুই দল পাঁচটি করে পেনাল্টি শট নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং যে দল বেশি গোল করতে পারবে, তারাই বিজয়ী হিসেবে গণ্য হবে। তবে পাঁচ শট শেষেও যদি দুই দলের স্কোর সমান থাকে, তবে খেলা যাবে ‘সাডেন ডেথ’-এ। সেখানে এক দল গোল করার পর অন্য দল গোল করতে ব্যর্থ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যাবে।
