হামাস নেতা বাসেম নাঈমের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

ইরান ও হামাস নেতাদের টেলিফোন সংলাপ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাঈমের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির হালনাগাদ তথ্য।

হামাসের কৃতজ্ঞতা ও ইরানের অবস্থান

হামাসের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, বাসেম নাঈম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মুখে ইরানের পক্ষ থেকে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নাঈম ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তেহরানের অটুট সমর্থন ও দৃঢ় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জবাবে আব্বাস আরাগচি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদল গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। আরাগচি জানান, গাজায় সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিটি আলোচনায় এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা

গত কয়েক মাস ধরে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে ইসরায়েল গাজা সংকটের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পাশাপাশি গাজা যুদ্ধের বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।