গ্রেপ্তারের একদিন পরেই চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকালে কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুল আলম। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হওয়ার ঘটনা

বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গতকাল মঙ্গলবার নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৪ সালে সাতকানিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর গতকাল বিকেলে তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ

নুরুল আলমের ভাই নূর মোহাম্মদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তিনি জানান, গতকাল সাতকানিয়া ভূমি অফিসে জমি সংক্রান্ত একটি শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। সেখান থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে সাতকানিয়া থানায় সোপর্দ করে। নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের নামে কোনো মামলা ছিল না। জায়গা-জমির বিরোধের কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।’

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন জানান, গতকাল বিকেলে কারাগারে আনার পর নুরুল আলমকে আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। আজ সকালে হঠাৎ তিনি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। দ্রুত তাঁকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইকবাল হোসেনের ভাষ্যমতে, কারাগারে আনার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন এবং তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশের বক্তব্য

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনে এবং পরে আদালতে পাঠায়। থানায় থাকাকালীন তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন এবং তাঁকে মারধর করা হয়নি। গতকাল বিকেলেই আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।