ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনে জাতির আত্মপরিচয় সুদৃঢ় করার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর জোর দিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহারের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সংগীত বিভাগ আয়োজিত এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় অনুষ্ঠিত ‘রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন এক সংকটকালীন মুহূর্তে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, যখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতি অব্যবস্থাপনার কারণে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

ইতিহাসের বিকৃতি রোধ ও আত্মপরিচয় সুদৃঢ়করণ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি অতীতে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয় সুদৃঢ় করতে হলে ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন এবং আমাদের গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্য থেকেও নজরুল তাঁর অনন্য মেধা, বিদ্রোহী সত্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছেন। তাঁর শোষণবিরোধী দর্শন ও আত্মমর্যাদাবোধ আজও সমাজকে উজ্জীবিত করে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও নজরুলের সাহসিকতার জন্য তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ ও সম্মান করতেন বলে তিনি স্মরণ করেন।

উৎসবের আয়োজন ও পরিবেশনা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদ্দীন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথভাবে রবীন্দ্র ও নজরুল উৎসব আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক চর্চার যে স্থবিরতা ও সীমাবদ্ধতা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিনটি ‘রবীন্দ্র পর্ব’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্বে সংগীত ও কবিতা পরিবেশন করেন শিল্পী বুলবুল ইসলাম, শামা রহমান ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ‘শ্যামল সুন্দর’ পরিবেশন করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ, ধৃতি নর্তনালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ সম্মিলিতভাবে নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ মঞ্চস্থ করে। এছাড়া উৎসবের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ‘নজরুল পর্ব’ অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ানকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাহমিনা আখতার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সাবিনা শরমীন এবং সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অণিমা রায়।