বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় মো. শফি (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মাইন বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ উড়ে গেছে এবং বাম পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে গেছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সংলগ্ন একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী এলাকার বাসিন্দা শফি সীমান্ত সংলগ্ন একটি বাগানে কলার ছড়া কাটতে গিয়েছিলেন। কাজ করার সময় আকস্মিক এক মাইনের বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দে শফির সঙ্গে থাকা অন্য লোকজন ভয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা ফিরে এসে শফিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
আহত শফি রেজু আমতলী এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। এলাকাটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, রেজু আমতলীর ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলারের পশ্চিমে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মে এই সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। এরপর ৯ জুন একই ধরনের দুর্ঘটনায় আরও একজন কৃষক প্রাণ হারান। এ ছাড়াও গত ২ জুন পরিত্যক্ত মর্টারশেল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
