কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার কারণে টানা দুই বছর বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। পরিবারের অভিযোগ, চরম আর্থিক অনটন ও মানসিক চাপের কারণেই ওই শিক্ষিকার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান নুমিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
জানা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ তানিয়া সোলতানা ২০১৮ সালে নিজের এনআইডি সংশোধনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ আট বছর পার হয়ে গেলেও সেই আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এই প্রশাসনিক জটিলতার ফলে গত প্রায় দুই বছর ধরে তার সরকারি বেতন বন্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো থেকে শুরু করে সন্তানের শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত শনিবার (২৭ জুন) বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে অনেক ডাকাডাকি করেও ছেলে নুমিমের কোনো সাড়া না পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন কানিজ তানিয়া সোলতানা। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে নুমিমকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন এবং পারিবারিক মানসিক চাপ থেকেই তাদের সন্তান এমন পথ বেছে নিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বছরের পর বছর একটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন ঝুলে থাকার কারণে একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন বন্ধ থাকবে এবং একটি পরিবার এমন চরম সংকটে পড়বে, তবে এর দায়ভার কার ওপর বর্তাবে? শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা জানান, তিনি বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি। তিনি অবিলম্বে এর সুষ্ঠু সমাধান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক অবহেলা বা জটিলতার কারণে একজন শিক্ষকের বেতন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঝুলে থাকা এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আবেদনটি বর্তমানে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
