জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের সামনে বিগত দিনের হতাশার চিত্র ভেসে উঠেছিল। এর কারণ হলো, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে, অর্থাৎ ২৪ বছরে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম গোল খাওয়ার পর আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
কিন্তু এবার সেলেসাওরা সেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ দূর করেছে। অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে তারা ২-১ গোলের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, যা ২০০২ সালের পর নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতার তাদের প্রথম কীর্তি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের সবশেষ নকআউট পর্বের প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল ২০০২ সালের বিশ্বকাপে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে রিভালদো গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন। পরবর্তীতে রোনালদিনিওর এক অনবদ্য গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট অর্জন করে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের কাছে প্রথমে গোল হজম করার পরও ব্রাজিল মোট ১৫টি ম্যাচে জয়লাভ করেছে। এই ১৫টি জয়ের মধ্যে সাতটি এসেছে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থেকে। বাকি জয়গুলো নকআউট বা পরবর্তী ধাপের, যার মধ্যে ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিও অন্তর্ভুক্ত। তাই, সরাসরি নকআউট পর্বে অথবা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা সংখ্যায় কম হলেও ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
ব্রাজিলের জেতা পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে দুটিই এসেছে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেন খেলার শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভাভা, পেলে এবং জাগালোর গোলে ব্রাজিল ৫-২ ব্যবধানে জয়ী হয়ে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে। এর চার বছর পর, ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। চেকোস্লোভাকিয়া প্রথমে এগিয়ে গেলেও আমারিল্ডো, জিতো এবং ভাভার গোলে সেলেসাওরা ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
প্রত্যাবর্তনের এই ইতিহাস ব্রাজিলের জন্য নতুন নয়; এর শুরু হয়েছিল ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপেই। সেই আসরে চেকোস্লোভাকিয়া এবং সুইডেনের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়া ও উরুগুয়ের বিপক্ষেও একই কায়দায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ব্রাজিল। ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রথমে গোল হজম করার পরও জিকো-সক্রেটিসদের দল শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল।
তবে ২০০২ সালের পর থেকে নকআউট পর্বে প্রথম গোল হজম করার পর আর ব্রাজিলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। যদিও এই সময়ের মধ্যে গ্রুপ পর্বে ২০০৬ সালে জাপান এবং ২০১৪ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও সেলেসাওরা জয়লাভ করেছিল।
জাপানের বিপক্ষে বর্তমান ম্যাচে ব্রাজিল সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির অসাধারণ গোলে ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
