৮৮ বছর পর নকআউটে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য জয় পেল ব্রাজিল

অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর এক গল্প লিখে ৮৮ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরেও কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৩৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিরতির সময় পিছিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল সেলেসাওরা। সেই বছর চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল তারা, আর প্রায় আট দশক পর ইতিহাসের সেই পুনরাবৃত্তি ঘটল। এই জয়ের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তিরা টানা ১১ বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল। তবে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটে ৯৫ মিনিটে, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চমৎকার এক গোলে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত হয়। এটি কেবল দলটির জয় নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ের নকআউট পর্বে যেকোনো দলের সবচেয়ে দেরিতে করা ম্যাচজয়ী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিল জিতেছিল, কিন্তু সেবার বিরতির আগেই তারা সমতায় ফিরেছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এই নিয়ে ষোড়শ বারের মতো পিছিয়ে পড়েও জয়ের স্বাদ পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা জার্মানির সাথে যৌথভাবে বিশ্বরেকর্ড।

এই ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের দারুণ সমন্বয় দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালের পর থেকে হিসাব করলে, ২৯ বছর ২৪৫ দিন গড় বয়সের এই একাদশ ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স্ক দল। যেখানে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার কীর্তি গড়েছেন। তবে রেকর্ডের পাতায় কাসেমিরোর আরেকটি বিষয়ও রয়েছে; ২০১৮ সালে অভিষেকের পর বিশ্বকাপে এটি ছিল তার পঞ্চম কার্ড, যা এই সময়ে যেকোনো ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ।

অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরাও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ১৯ বছর ৩৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে পেলের মতো কিংবদন্তিদের পাশে ব্রাজিলের হয়ে নকআউট পর্বে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার বনে গেছেন হায়ান। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেসও অসাধারণ খেলেছেন; চলতি আসরে এটি ছিল তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা ৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুরো ম্যাচ জুড়ে জাপানের রক্ষণভাগকে চাপে রাখা ব্রাজিল তাদের আক্রমণভাগে ২১০টি সফল পাস দিয়েছে, যা বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে দলটির সর্বোচ্চ পাসের নতুন রেকর্ড। সব মিলিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল আর রেকর্ডের পাতায় নতুন এক অধ্যায় লিখে মাঠ ছেড়েছে আনচেলত্তির ব্রাজিল।