জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শিরোনামের এই আয়োজনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ, এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হবে এবং ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ শীর্ষক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা সমাপ্ত হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে এনসিপি। জুলাই মাসকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে এটি যথাযথ মর্যাদায় পালন এবং গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দলটির পক্ষ থেকে এই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
জুলাইয়ের এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাসনাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে সদস্যসচিব করে ২৮ সদস্যের ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দলের ঘোষিত সব কর্মসূচির পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের কাজ করবে। এনসিপি দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণসমাজ, সংস্কৃতিকর্মী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীসহ সবাইকে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কর্মসূচির বিস্তারিত অনুযায়ী, ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের কবর জিয়ারত ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর সংহতি সভার আয়োজন থাকবে। এদিন ‘জুলাই থেকে জনপদে’ শিরোনামে বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা পর্যায়ে পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। ২–৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াললিখন ও ব্যানার-ফেস্টুনে ‘জুলাই জাগরণ’ পালিত হবে। ৫–৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ১০ জুলাই ‘বাংলাদেশি সংস্কৃতির পরিবর্তিত অভিমুখ: লেখক-বুদ্ধিজীবীর দায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ১৪ জুলাই জুলাই নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জুলাই ‘কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আয়োজন রয়েছে। ১৬ জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত ও দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল এবং ১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিনমিছিল করবে দলটি।
এছাড়া ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘রেজিস্ট্যান্স ডে’, ১৯ জুলাই ‘উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই’ স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ২০ জুলাই ‘জুলাইয়ের যাত্রাবাড়ী: মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা’ বিষয়ক কর্মসূচি পালন করা হবে। ২২ জুলাই ‘সাদা অ্যাপ্রোনের সাহস ও জুলাইয়ের অদৃশ্য বীরেরা’, ২৩ জুলাই ‘আহতের কণ্ঠে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও যন্ত্রণার দিনলিপি’ এবং ২৪ জুলাই জুলাই যুব কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ জুলাই শ্রমিক সমাবেশ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ২৬ জুলাই ‘সাদা পোশাকের জালিম’ শীর্ষক স্মৃতিচারণা এবং ২৭ জুলাই ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও উদ্যোক্তার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজন রাখা হয়েছে।
৩০ জুলাই ‘ফিরে দেখা জুলাই’ ও ‘হ্যাশট্যাগ থেকে গণ–অভ্যুত্থান’ এবং ৩১ জুলাই শিক্ষকদের ভূমিকাবিষয়ক আলোচনার আয়োজন থাকবে। আগস্ট মাসের শুরুতে ১ আগস্ট ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’ ও ‘সংবাদে গণ–অভ্যুত্থান’, ২ আগস্ট ‘জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা’ এবং ৩ আগস্ট ‘জনতার এক দফা’ কর্মসূচি রয়েছে। ২ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিস্বর ও জুলাই স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। ৪ আগস্ট আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ শীর্ষক আয়োজনে মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এনসিপির প্রবাসী সংগঠন ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিদেশেও কর্মসূচি পালিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন ও জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
