হাসনাত আবদুল্লাহ ও মব বিতর্ক: ক্ষমতার দাপটে প্রশ্নবিদ্ধ নেতৃত্ব

লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই সংসদীয় রাজনীতিতে ‘মব’ ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে তিনি যে জনপ্রিয়তা ও আস্থার প্রতীক ছিলেন, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর তাঁর কর্মকাণ্ডে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ মনে করে রাজপথে নেমেছিল। তবে আন্দোলনের পর সেই একই তরুণ এখন ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের নতুন এক ধারার জন্ম দিয়েছেন বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভিন্নমত দমন ও বিরোধী মতকে শায়েস্তা করার জন্য ‘মব কালচার’কে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সুধী-শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তাঁর মন্তব্য ও আচরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সেনাবাহিনীকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে, অথচ অতীতে বেশ কয়েকবার তিনি নিজেই সংকটের সময় সেনাবাহিনী থেকে নিরাপত্তা পেয়েছেন। কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসক মুস্তাক মিয়ার মন্তব্যের পর হাসনাত ও আসিফের হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

সংসদ সদস্য হওয়ার পরেও হাসনাতের বিরুদ্ধে মব সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ থামেনি। গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতি বা তাদের বিলাসী জীবন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় আইনি পথে না গিয়ে বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য করে হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ বা ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে জনরোষ উসকে দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যগুলোকে উসকানিমূলক বলে মনে করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার বদলে নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার বা শাস্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। একদিকে তিনি জনসভায় কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলছেন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের মতো বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপনে সমঝোতার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাত আবদুল্লাহর এই আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি। এটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে এবং আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারের নীরবতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের কারণে এই মব প্রবণতা আরও ডালপালা মেলছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জুলাই আন্দোলনের সময় স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কথা বললেও, বর্তমানে তাঁর কর্মকাণ্ডে সেই ক্ষমতার দাপট ও ভিন্নমত দমনের ছাপ স্পষ্ট বলে সমালোচকদের অভিমত।