সস, মেয়োনেজ বা চিজ দেওয়া খাবার কি পুনরায় গরম করে খাওয়া নিরাপদ?

সস, মেয়োনেজ বা চিজ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু খাবার বেঁচে গেলে অনেকে তা ফ্রিজে রেখে পরদিন গরম করে খেয়ে থাকেন। তবে এভাবে খাবার গরম করে খাওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান জানান, সস, মেয়োনেজ বা চিজযুক্ত খাবার সবসময় টাটকা অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে খাবারের স্বাদ অটুট থাকে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকে। তবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হলে সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় জীবাণু সংক্রমণের ফলে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খাবার তৈরির দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলে রাখা উচিত। গরম আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। তবে গরম অবস্থায় কখনোই খাবার ফ্রিজে ঢোকানো যাবে না। খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় টেবিলে পড়ে থাকা খাবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে। সারা রাত টেবিলে রাখা খাবার পরদিন গরম করে খাওয়া একেবারেই অনুচিত। পাস্তাজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে পরিবেশনের আগেই কিছু অংশ আলাদা করে রাখা ভালো, যাতে বারবার নাড়াচাড়া না হয়।

ফ্রিজে রাখার জন্য বায়ুরোধী বাক্স ব্যবহার করা জরুরি। তবে গরম অবস্থায় প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রাখা যাবে না। প্রতিটি বাক্সে এমন পরিমাণে খাবার রাখুন যেন একবার বের করলে তা পুরোটা একবারেই গরম করে খেয়ে নেওয়া যায়, কারণ একই খাবার বারবার গরম করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খাবার গরম করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিটি অংশ সমানভাবে গরম হয় এবং কোনো অংশ ঠান্ডা না থাকে। গরম করার সময় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, কাগজ বা পলিথিনজাতীয় মোড়ক অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে।

বার্গারজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে টমেটো, শসা বা লেটুস পাতার মতো কাঁচা উপাদানগুলো আলাদা করে রেখে শুধু বান ও প্যাটি গরম করা শ্রেয়। চিজের স্তর থাকলেও তা আলাদা করে রাখা ভালো। এসব খাবার ফ্রিজে রাখার পরদিন খেয়ে নেওয়াই উত্তম এবং তৈরির পর ২৪ ঘণ্টার বেশি ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। যদি কোনো খাবারের ঘ্রাণ, রং বা স্বাদে পরিবর্তন আসে কিংবা পিচ্ছিল ভাব দেখা দেয়, তবে তা ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যেসব খাবারে সস, মেয়োনেজ বা চিজের পরিমাণ বেশি, সেগুলো ফ্রিজে রেখে পরে গরম করার চিন্তা না করাই ভালো। স্যান্ডউইচ ফ্রিজে রাখলে ঠান্ডা অবস্থাতেই খেয়ে নেওয়া উচিত।

যদি অনেক বেশি পরিমাণ খাবার থাকে, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া সম্ভব নয়, তবে শুকনা অংশগুলো আলাদা করে ডিপফ্রিজে রাখা যেতে পারে। তবে চিজ বা সস দেওয়া নরম খাবার, ঝোলজাতীয় খাবার কিংবা কাঁচা উপাদান মেশানো খাবার কোনোভাবেই ডিপফ্রিজে রাখা যাবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া না গেলে সেগুলো অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া ভালো। বাইরের বাসি খাবার কিনে ফ্রিজে সংরক্ষণ করার ভুল কখনোই করা উচিত নয়। যদি বাসি খাবার কিনতেই হয় এবং খাওয়ার বিকল্প না থাকে, তবে তা কেনার দিনই খেয়ে ফেলা জরুরি।