নরসিংদীর রায়পুরায় প্রেমিকার বাড়ি থেকে ওয়ালিদ হাসান (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের একটি বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যার পর মরদেহটি কাপড় ও বস্তায় মুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা।
নিহত ওয়ালিদ হাসান ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ালিদের সঙ্গে জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলার চারপাশে কালচে দাগ রয়েছে, যা দেখে পুলিশের ধারণা—বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হত্যার পর লাশটি বাড়ির উঠানে ফেলে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেয় এবং ঘাতক চক্রের সদস্যদের ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রেমিকা প্রাণা আক্তার (১৭), তার মা ফরিদা আক্তারসহ মোট চারজনকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক ও প্রেমিকার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন।
রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

