কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে টানা তিন দিন ধরে চলছে ভারী বর্ষণ। এর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা দমকা হাওয়ায় বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দ্বীপের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় পানির উচ্চতা চার থেকে পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকায় অবস্থিত বহু বাড়িঘরে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে জমে থাকা হাঁটুসমান পানিতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, উত্তাল সাগরের বড় বড় ঢেউ একের পর এক উপকূলে আছড়ে পড়ছে। সাবেক ইউপি সদস্য হাবিব উল্লাহর ভাষ্যমতে, অনেক স্থানে উপকূল ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে এবং অধিকাংশ মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতর অবস্থান করছেন।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ও সতর্ক সংকেত প্রত্যাহারের পরই পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু হবে। ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম এই পরিস্থিতিতে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তাল সাগরের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে না পারায় তাদের জীবিকাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিয়ে টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়ায় বঙ্গোপসাগর ক্রমেই আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় সমুদ্রের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

