জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেশ-বিদেশে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে পাঠ্যপুস্তক, গবেষণা, প্রকাশনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর সৃষ্টিকর্মের প্রসার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিশিল্পীরা। রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শিল্পী সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় এই প্রস্তাবনাগুলো উঠে আসে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের প্রায় চার শ শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী অংশ নেন।
সভায় বক্তারা পরামর্শ দেন যে, বাস, ট্রেন ও বিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁর দর্শন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও ছড়িয়ে পড়বে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আরও কার্যকর ও জনমুখী করতেই এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনরা শুধু রাজধানী নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ, কর্মশালা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বিদেশে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, নজরুলচর্চাকে কেবল গান, কবিতা বা নৃত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যন্ত্রসংগীত, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ বাণী ও সুরে পৌঁছে দিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নজরুলচর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘নজরুল বর্ষ’ পরবর্তী সময়েও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
সভায় নজরুলের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও গবেষণা জোরদার, জনসমাগমস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা এবং একটি থিম সং তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মাদক, মৌলবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি লালন, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালিসহ বাংলা সংস্কৃতির ধারার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে নজরুলের গান ও লেখা আরও অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, অংশগ্রহণকারীদের সব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্যাপনের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে জাসাস আহ্বায়ক হেলাল খান উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

