যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচার চক্রের সদস্য সাইফুল্লাহর বিচার শুরু

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লরেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে গত ৮ জুলাই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ব্রাজিল পুলিশ তাকে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাইফুল্লাহ আল-মামুন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্রাজিল, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং মেক্সিকোর ভেতর দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দিতেন। পাচারের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি যুবকদের প্রথমে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে একটি ক্যাম্পে রাখা হতো। এরপর তাদের মেক্সিকোর তাপাচুলা ও সীমান্তবর্তী শহর মন্তেররেইয়ে নিয়ে আসা হতো এবং সর্বশেষ ধাপে রিও গ্রান্দে নদী পার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানো হতো।

এফবিআইয়ের তথ্যমতে, এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই একই চক্রের দুই সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এর আগে টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালত মানবপাচারের দায়ে মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনকে ৪৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিচার সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলিদের ভাষ্যমতে, আদালতে দোষ স্বীকার করার কারণেই তারা তুলনামূলক কম সাজা পেয়েছেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পাঁচ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবপাচার দমনে মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’ এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া অনেক বাংলাদেশির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এই আন্তর্জাতিক চক্রের আরও বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy