জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০২৬’। নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনা শাখার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবটি চলবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত এবং এই সময়ে প্রতিদিন একটি করে নাটক মঞ্চায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল। উৎসবের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতকে ‘বিশেষ নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যৌথভাবে তার হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
আবুল হায়াতকে সম্মাননা প্রদানকালে অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল বলেন, ‘আবুল হায়াত আমাদের দেশের অভিনয়ের একজন মহান শিল্পী। এত বড় শিল্পী হওয়া সহজ নয়। এর জন্য সাধনা ও আধ্যাত্মিকতা প্রয়োজন, যা আবুল হায়াত ভাই অর্জন করেছেন। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের তাকে নিয়ে গবেষণা করা উচিত।’
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘আজকের এই সম্মাননা আমার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি সবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শিল্প মানেই শিক্ষা, আর আমি এখনো শিখছি। ১০ বছর বয়সে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেছিলাম, যা এখন আমার রক্তে মিশে গেছে। বাবার সংস্কৃতিমনা হওয়ার সুবাদে পরিবার থেকেই এই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। ১৯৫৪ সালে প্রথমবারের মতো মঞ্চে ওঠা এই মানুষটির অভিনয়জীবনের বয়স এখন ৭২ বছর এবং নিজের বয়স ৮১ বছরের বেশি।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘অভিনয় মানে শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলা নয়, এটি বাস্তবতাকে তুলে ধরার শিল্প। সাফল্য অর্জনের চেয়ে সততা ও নিষ্ঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নাটক মানুষকে অন্যের আনন্দ-দুঃখ অনুভব করতে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। অভিনয় মূলত একটি মিথ্যা, কিন্তু একজন নাট্যশিক্ষার্থী হিসেবে সেই মিথ্যাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই প্রকৃত অভিনেতার কাজ।’
উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা থেকে ‘ক্ষ্যাপাটে’ নামের একটি নাট্যদল এসেছে। এছাড়া ভারত থেকেও একটি নাট্যদল এই আয়োজনে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

